কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। পাশাপাশি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ. ক. ম. বাহাউদ্দীন বাহারকেও সতর্ক করে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইসি।

তবে 'প্রথমবারের মতো এবং অনিচ্ছাকৃত' হওয়ায় রিফাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে রোববার আরফানুল হক রিফাতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করতে ২৪ ঘন্টার সময় বেধে দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিল ইসি। 

সোমবার রাতে কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী সমকালকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসিতে পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তে কি পাওয়া গেছে তা ইসি সচিবালয় থেকে জানানো হবে।

ইসি কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, কুসিক নির্বাচনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার পর মিছিল ও একটি সভা অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করা হয়। 

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কমিশনের সদস্যরা আলোচনা করেছেন। প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত মিছিল ও সভা সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। 

এসব কার্যক্রম আচরণ বিধি পরিপন্থি হলেও 'অনিচ্ছাকৃতভাবে ও প্রথমবারেরর মত হওয়ায়' সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করে, পরবর্তীতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে। 

এতে আরো বলা হয়, কুসিক নির্বাচনে ভবিষ্যতে আর যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে এবং আচরণবিধিতে সংসদ সদস্যদের জন্য যেসব নির্দেশনা রয়েছে তা উল্লেখ করে কুমিল্লা-৬ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আ. ক. ম. বাহাউদ্দীন বাহারকে ইসির পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হবে।

এদিকে ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে অপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোন ধরণের শোডাউন করা যাবে না বলে সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে। 

ইসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোন প্রার্থী বা তার পক্ষের কেউ শোডাউন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ইসির পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে- আজ ১৭ মে মঙ্গলবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ দেশের ৬টি পৌরসভা ও ১৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। 

এসব নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কোন ধরণের শোডাউন করা যাবে না। আচরণবিধি অনুযায়ী কোন প্রার্থী ৫ জনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কোন প্রকার মিছিল কিংবা শোডাউন করা যাবে না বা কোন প্রার্থী ৫ জনের অধিক সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দিতে পারবেন না। 

নির্বাচন পূর্ব সময় অর্থাৎ নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা হতে নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত কোন প্রকার মিছিল বা কোনরূপ শোডাউন করা যাবে না।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।