রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশের জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, বায়োটেকনোলজির ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ। মানবজাতির অস্তিত্ব নির্ভর করবে বায়োটেকনোলজির ওপর। তাই আমাদের জীববিজ্ঞান, রসায়ন,পদার্থবিজ্ঞান এ বিষয়গুলোর ওপরে বিশেষভাবে শিক্ষা নেওয়া, প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং প্রায়োগিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এ দেশের উন্নয়ন হবে না। বিজ্ঞান ভবন ও ল্যাব নির্মাণের সঙ্গে প্রায়োগিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থী পর্যায়ে ও শিক্ষক পর্যায়ে আমাদের বিশেষভাবে মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করতে হবে। আমাদের শিক্ষকদের মান বাড়াতে হবে, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষায় গভীর মনোযোগ দিতে হবে। না হলে ২০৪১ সালে আমরা যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছি, তা বাস্তবায়ন হবে না।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিল আফরোজ বেগম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে বিজ্ঞানের চর্চা এগিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের আয়োজনে বিজ্ঞানের প্রায়োগিক চর্চা হচ্ছে। যা বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আমাদের শিক্ষার্থীরা এ ধরনের আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাবে। সমকাল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিজ্ঞান চর্চায় কাজ করে যাচ্ছে। যারা এ ধরনের আয়োজন করে অংশগ্রহণ করে তাদের অনুপ্রাণিত করে আসছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সময়ে পাঠ্যপুস্তকে প্রাণীর ছবি, পাতার ছবি ও এ ধরনের কিছু সংশ্লেষণ দেখতাম। কিন্তু এই ৫০ বছরে জীববিজ্ঞানের নানা আয়োজন হয়েছে। নানা গবেষণা হয়েছে। এখন পৃথিবীর বাইরে মহাশূন্যে প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। জীববিজ্ঞান থেকে এখন অনেক শাখা-প্রশাখা বের হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রধান কোচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাখহরি সরকার, সমকালের সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধান শেখ রোকন, বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসব-২০২২ এর সদস্য সচিব সৌমিত্র চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে দেশের ১২টি অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা অংশগ্রহণ করে। এবারের উৎসবের স্লোগান 'ইয়েরেভানে বাংলার জয়গান'। এ উৎসব থেকে নির্ধারিত চারজন প্রতিযোগী আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করবে।

ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিল আফরোজ বেগম বলেন, জীববিজ্ঞানের গবেষণার গুরুত্ব এবারে আমাদের করোনার মধ্যে উপলব্ধি হয়েছে। তাই জীববিজ্ঞানের সঙ্গে বিজ্ঞানের গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের সময়ে এ ধরনের অলিম্পিয়াডের আয়োজন হতো না, এখন হচ্ছে। তবে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়াতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের কৃষি, পশুপালন সবক্ষেত্রে গবেষণায় অংশ নিতে হবে। বিজ্ঞানে আরও গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের প্রত্যেক স্কুলে প্রাকটিক্যাল ল্যাব তৈরি করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, জীববিজ্ঞান সমিতি এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের গবেষণা কাজকে এগিয়ে নিচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত প্রান্তের তরুণরা এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। এবারের আয়োজনের মাধ্যমেও বিজয়ীরা আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং তারা বিজয়ীবেশে ফিরবে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, আমরা আমাদের স্কুলের পড়াশোনা অনেকটা বাধ্য হয়ে পড়ে থাকি। যাতে তেমন আনন্দ থাকে না। কিন্তু অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে থাকে।

বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রধান কোচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাখহরি সরকার বলেন, এ ধরনের অলিম্পিয়াড আয়োজনে উপলব্ধি করতে পারি বিজ্ঞানের গুরুত্ব কতটুকু। জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজনের মাধ্যমে তরুণরা বিজ্ঞানের ওপর গবেষণা করার সুযোগ পায়।

সমকালের সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধান শেখ রোকন বলেন, সমকাল সবসময় সামাজিক দায়িত্ব পালন করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতির অংশ হয়েছে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, শিক্ষাবহির্ভূত কার্যক্রম উৎসাহিত করা।