ইউক্রেনে গত ১০০ দিনের যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব আমিন আওয়াদ। তিনি বলেন, ‘চলমান যুদ্ধে কোনো বিজয়ী নেই এবং হবেও না। বরং আমরা ১০০ দিন ধরে অনেক মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি, চাকরি এবং আগামীর সম্ভাবনা হারাতে দেখছি।’

আওয়াদ বলেন, ‘এই যুদ্ধ মানুষের অগ্রহণযোগ্য ক্ষতি এবং বেসামরিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে।’ ইউক্রেন ইস্যুতে দেওয়া বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানায়, যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ শস্য ও পণ্যকে অবরুদ্ধের চেষ্টা করে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে রাশিয়া। এ ছাড়া তিন মাসেরও বেশি সময়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইউক্রেনীয়কে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই যুদ্ধ অবশ্যই এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।

ইউক্রেন যুদ্ধের শততম দিনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্র পেসকভ বলেছেন, সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনে অভিযান চালিয়ে যাবে রাশিয়া। তিনি বলেন, চলমান অভিযানের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হলো দোনেস্ক পিপলস রিপাবলিক এবং লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দিনটিকে কেন্দ্র করে রুশ আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী আছে। আমাদের দেশের জনগণ দখলদারদের বিরুদ্ধে এখনও লড়ে যাচ্ছে। আমরা গত ১০০ দিন ধরে ইউক্রেনকে রক্ষা করে এসেছি। জয় আমাদের হবেই। গৌরব অবশ্যই ইউক্রেনের প্রাপ্য।

এদিকে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর ৪০টির বেশি জাহাজ ও ২০টি এয়ারক্র্যাফট নিয়ে শুক্রবার সপ্তাহব্যাপী ধারাবাহিক নৌ মহড়া শুরু করেছে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত মহড়াটি চলবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রু সাবমেরিনের খোঁজে চালানো অভিযানে বেশ কিছু জাহাজের সঙ্গে নৌবাহিনীর বিমানও থাকবে।

রাশিয়া এমন এক সময় এ মহড়ার আয়োজন করল যখন ইউক্রেনে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।