পঞ্চগড়ে ২৪ ঘন্টায় সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। তিনদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিতে জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া উত্তরের ভারত থেকে বেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার মহানন্দা, করতোয়া, তালমা, ডাহুকসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপদ সীমা ছুঁইছুঁই করছে। নদী সংলগ্ন  নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এতে চরম জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।

বুধবার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টি আর অকেজো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানিবন্দি হয়েছে পড়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পৌরসভা এলাকার বাসা বাড়িতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলা শহরের কামাতপাড়া, ইসলামবাগ, রামের ডাংগা, নিমনগর, খালপাড়া, নতুনবস্তি খালপাড়া তুলার ডাংগা, পৌরসভা খালপাড়ার বিভিন্ন গ্রাম এবং উপজেলা সদরের চার ইউনিয়নের হাড়িভাসা, রতনীবাড়ি, মাগুড়া, ফুটকিবাড়ি এলাকাসহ তেতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকাও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আকস্মিক জলবদ্ধতায় জেলা শহরের করতোয়া কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ্ বলেন, বুধবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিমাণ বৃষ্টিপাত সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আরও তিন দিন ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

পৌরসভা ইসলামবাগ মহল্লার বাসিন্দা হারুন উর রশিদ বাবু বলেন, পৌরসভা এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতি বছর বর্ষায় আমাদের এলাকায় একই অবস্থা হয়। কিন্তু কারো কোনো পদক্ষেপ দেখি না। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার এই ড্রেনের জন্যই প্রতিবছর জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আমরা এক বিরক্তকর পরিবেশে বসবাস করছি।

পৌরসভা মেয়র জাকিয়া খাতুন বলেছেন, আগে থেকেই পঞ্চগড় পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে কাজ করছি। অনেক ড্রেনে স্থানীয়রা ময়লা ফেলে ভর্তি করছেন। এছাড়া নানা জটিলতায় সব ড্রেন থেকে ময়লা অপসারণ বা পরিস্কার করা যায়নি। এজন্য অতি বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় সারা দেশের মধ্যে পঞ্চগড়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া উত্তর থেকে বেয়ে আসা ঢলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধা দেখা দিয়েছে। আমরা পানিবন্দি বিভিন্ন এলাকার পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যে পৌরসভা এলাকায় পানিবন্দি মানুষদের জন্য ২০ টন এবং জলাবদ্ধ বিভিন্ন ইউনিয়নে দুই টন করে জিআর এর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। পানিবন্দি ও দুঃস্থদের মাঝে চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘মুলত অতিবৃষ্টির কারণেই এই জলাবদ্ধতা। এছাড়া পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বেশ নাজুক। এ নিয়ে একাধিক বৈঠকসহ মেয়র সাহেবকে বার বার বলা হয়েছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যস্থার উন্নতি নিয়েও আমরা কাজ করছি।।