শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর একটি পেট্রোল স্টেশনে তেল কিনতে সবার আগে লাইনে দাঁড়িয়েছেন আজিওয়ান সদাশিবম। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, দুই দিন ধরে লাইনের এক নম্বরে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি তিনি। সদাশিবম জানেন না আর কতক্ষণ তাঁকে সেখানে আটকে থাকতে হবে। বিবিসির প্রতিবেদককে ডেকে নিয়ে নিজের গাড়ির ড্যাশবোর্ড দেখালেন সদাশিবম। পেট্রোল গজের কাঁটা তখন শূন্যের ঘরে অবস্থান করছিল।

একজন ট্যাক্সিচালকের কাছে পেট্রোল হলো জীবন বাঁচানো রক্তের মতো উল্লেখ করে সদাশিবম বলেন, অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমি গাড়িতেই ঘুমাচ্ছি। মাঝে মধ্যে বাইরে যাই, খাবার খাই। তারপর আবার ফিরে এসে অপেক্ষা করি। গত কয়েকদিন গোসলও করিনি। তেল থাকলেই কেবল আমি আমার ক্যাব চালাতে পারব, তখন কিছু আয়-রোজগার হবে।

এই পাম্পে সদাশিবমের গাড়ি দিয়ে যে লাইনের সূচনা হয়েছে, তা সড়কের পাশে সাপের মতো এঁকেবেঁকে দুই কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের ধারে গিয়ে শেষ হয়েছে। ওই এক লাইনই শেষ নয়। পাশাপাশি মোট চারটি লাইন- একটি কারের জন্য, একটি বাস ও ট্রাকের জন্য, বাকি দুটি মোটরসাইকেল ও টুক-টুকের জন্য।
লাইনের শেষের দিকে তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন কলম্বোর বাইরে থেকে আসা জয়ন্ত আথুকোরালা।

এই স্টেশনে আসতে তাঁর খরচ হয়েছে ১২ লিটার পেট্রোল। তার পরও তিনি এসেছেন, কারণ তাঁর সামনে আর কোনো উপায় ছিল না। আথুকোরালার অনুমান ঠিক হলে লাইনে তাঁর অবস্থান ৩০০ নম্বরের আশপাশে। সাধারণত একটি পেট্রোল স্টেশন থেকে ১৫০ জনের বেশি কাউকে তেল দেওয়ার মতো বরাদ্দ থাকে না। তার পরও লাইনে অপেক্ষায় আছেন তিনি। পেট্রোল ছাড়া চলা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন আথুকোরালা।

দেশটিতে চলমান 'পেট্রোল খরা' কাটাতে শুধু স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য বিতরণ ও গণপরিবহনের মতো জরুরি পরিবহনগুলোকে তেল দেওয়া হচ্ছে পেট্রোল স্টেশন থেকে। এ ছাড়া সাধারণ গাড়িগুলোকে তেল দেওয়া হচ্ছে কঠোর রেশনিংয়ের মাধ্যমে, সামান্য পরিমাণে। এই বিপদের মধ্যে জ্বালানি পাওয়ার আশায় শ্রীলঙ্কা সরকার রাশিয়ার দ্বারস্থ হয়েছে। সস্তায় তেল কেনার ব্যাপারে আলোচনা করতে শ্রীলঙ্কার একটি প্রতিনিধি দল এ সপ্তাহের শেষে মস্কো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিনের সাহায্য চেয়ে চিঠিও লিখেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। বিবিসি।