দেশে পরিবহন ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস) সেবায় অবৈধ ব্যবসা বেড়েছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি গ্রাহকেরা পাচ্ছে না মানসম্মত সেবা। পাশাপাশি লাইসেন্সধারী বৈধ ব্যবসায়ীরাও প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে অবৈধ ব্যবসা বন্ধের দাবি তোলা হয়।

দেশের বিডিকম ও চীনা প্রতিষ্ঠান কনকক্স যৌথভাবে ২০০৯ সাল থেকে দেশে ভিটিএস সেবা দিচ্ছে। দুই কোম্পানির যৌথ ব্যবসার যুগপূর্তিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে কনকক্সের রিজিওনাল সেলস ডিরেক্টর (সাউথ-ইস্ট এশিয়া) মেলোডি চ্যান, ভেহিকেল ট্র্যাকিং সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভিটিএসপিএবি) প্রেসিডেন্ট এবং বিডিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম গোলাম ফারুক আলমগীর, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এ কে এম কুতুব উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেলোডি চ্যান সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, কোল্ড চেইন ম্যানেজমেন্টে ভেহিকেল ট্র্যাকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা, বিজনেস ডেভেলপমেন্টে এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরদের বৈধ চ্যানেলে আনা ডিভাইস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এই ডিভাইসের অবৈধ বিপণন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ফারুক আলমগীর বলেন, সরকার অনুমোদিত ট্র্যাকিং ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যক্তিগত, বাণিজ্যিক এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, চালকের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। তবে বাজারে অবৈধ এবং অননুমোদিত ট্র্যাকিং ডিভাইস অবাধ কেনাবেচার কারণে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, ঠিক তেমনই গ্রাহকও সঠিক সেবা পাচ্ছে না। ডিভাইস আমদানিতে ৫৯ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হয়। সার্ভিসের জন্য ব্যয়বহুল সার্ভার, দক্ষ প্রকৌশলী, অত্যাধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অবৈধ ব্যবসায়ীরা লাগেজে ডিভাইস এনে অল্প দামে বাজারে বিক্রি করছে। কিছুদিন পর এসব বিক্রেতাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। সার্ভার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গ্রাহক বঞ্চিত হয় সেবা থেকে। তাই সব ধরনের যানবাহনে সরকার অনুমোদিত ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করার জোরালো দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বিটিআরসির লাইসেন্সধারী ভিটিএস কোম্পানি ৪৫টি। এর মধ্যে ভিটিএসপিএবি’র সদস্য এখন পর্যন্ত ২৩টি।

বিষয় : ভিটিএস বিডিকম কনকক্স

মন্তব্য করুন