সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা প্রয়াত আকবর আলি খান সমকালীন বিষয় নিয়ে যেমন লিখেছেন, তেমনি খোলামেলা কথাও বলেছেন। তাঁর কলম এবং কণ্ঠ সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে পেরেছে। তাই তিনি বড় বড় পদে কাজের জন্য নয়, তাঁর রচিত বইয়ের জন্য শত শত বছর বেঁচে থাকবেন। তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মীরা এমনটাই মনে করেন।

গতকাল সোমবার এক ওয়েবিনারে আকবর আলি খানের সহকর্মীরা আরও বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর অনেক আমলা অন্তরালে চলে যান। তবে তিনি ছিলেন ভিন্ন। সরকারি চাকরির চেয়ে অবসরকালীন সময়ে লেখক হিসেবে বেশি ভূমিকা রাখতে পেরেছিলেন। এখনকার আমলাদের আকবর আলি খান থেকে প্রেরণা নেওয়ার তাগিদ দেন বক্তারা।

'ড. আকবর আলি খান :বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজে তাঁর অবদান' শীর্ষক ওয়েবিনারটির আয়োজন করে সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

এসআইপিজির উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ তারেক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে আকবর আলি খানসহ চারজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছিলেন। ওই সময় তাঁরা পদত্যাগ না করলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ভিন্ন হতো। আকবর আলি খানের ওই অবদান ইতিহাসে সঠিকভাবে মূল্যায়ন হয়নি। আকবর আলি খানের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দিলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শোক প্রস্তাব আসেনি।

আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, আমলাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, নিজেদের রং বদলে সব সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পারা। তবে আকবর আলি খান একাধিক সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন, কিন্তু তাঁর রং বদলাননি। ছাত্রজীবনে আকবর আলি খানের বেশিরভাগ সময় কেটেছে হলের রুমে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে।

মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, আকবর আলি খান ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তবে সবচেয়ে বেশি অবদান তাঁর বই। এসব বই অনুধাবন করার মতো মানসিক অবস্থা বর্তমানে আমাদের নেই। তবে ১০ কিংবা ২০ বছর পর তাঁর লেখা বই উপলব্ধি করতে পারবে মানুষ।

আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আকবর আলি খান বিশ্বব্যাংকে কাজ করেছেন নাকি অর্থ মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন- মানুষের ততটা মনে থাকবে না। ১০০ বছর পর কেউ যদি আকবর আলি খানকে স্মরণ করে, সেটা তাঁর লেখা বইয়ের জন্য করবে।

মোহাম্মদ তারেক বলেন, আকবর আলি খান ডেমোক্রেসি অব বাংলাদেশ বইয়ের জন্য শত বছর বেঁচে থাকবেন।