কন্যা শিশুর উন্নয়নে বড় বাধা বাল্যবিয়ে। বাল্যবিয়ে বন্ধে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইনের প্রয়োগ ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তাবায়ন করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। 

তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা ও পুষ্টি-সহ অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আমাদের কন্যা শিশুদের গড়ে তুলতে হবে। তাহলে তারা রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত হয়ে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে এবং নারী-পুরুষের সমতার পরিবেশ গড়ে উঠবে।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২২ উপলক্ষে রাজধানীর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত কয়েক দশকে নারী ও কন্যা শিশুদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে তাদের প্রতি সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে, তারা শিক্ষিত ও সচেতন হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, শিশু সুরক্ষা, অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস, শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, শিশু নির্যাতন, শিশু পাচার রোধসহ শিশুর সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা জানান, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর যথাযথ বাস্তবায়নের ফলে কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ ও সকল ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এক দশক আগে প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে ছাত্রী ভর্তির হার ছিল ৬১ শতাংশ যা বর্তমানে ৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, সরকার নারী ও শিশুবান্ধব। মনোকষ্টে, সমাজের চাপে অনেক কন্যাশিশু আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, যা কষ্টকর। কেউ মনোকষ্টে ভুগলেও ১০৯ নম্বরে কল করলে কাউন্সিলিং সেবা পাবে। নির্যাতন প্রতিরোধেও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই নম্বরে কল করে তাৎক্ষণিক সেবা গ্রহণ করা সম্ভব।

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি বলেন, আমাদের কন্যাশিশুরা সবধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। তাদের জন্য যদি সকল ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে তাঁরা আকাশ সমান সফলতা অর্জন করতে পারবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহ সম্পাদক রাবেয়া বেগম, শিক্ষার্থী তাবাসসুম আক্তর ,ফারহানা খাতুন, সামিয়া জাহান, নন্দিতা আক্তার হাফসা প্রমুখ।

আলোচনা শেষে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় তিন গ্রুপে মোট ১৫জন বিজয়ী শিশুর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। 'ক' গ্রুপে পুরস্কার অর্জন করেছে মুনিবা মাজহার, অয়ন বর্মন, সমৃদ্ধি মন্ডল (রিমঝিম), আমিনা হক মৃন্ময়ী ও নুর-ই-আনজুম সারা।

 'খ' গ্রুপের পুরস্কারজয়ীরা হলো- ফাইজা আলম, প্রকৃতি চৌধুরী, মিথিলা ভৌমিক, তামান্না আক্তার ও মোছা. ফাতিহা জান্নাত মাহি এবং 'গ' গ্রুপের পুরস্কারজয়ীরা হলো- অধরা চক্রবর্তী, আনিশা সান্তনি, অর্নিলা ভৌমিক, আদৃতি প্রিয়ন্তী বসু ও চাঁদনী আক্তার।