চলতি বছর বিশ্বে বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে। এ জন্য দায়ী উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ। পরিবেশ সুরক্ষায় যতটা তাদের অনীহা, ঠিক ততটাই আগ্রহ যুদ্ধবিগ্রহে। এর পরিণতি ভোগ করছে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। এ অবস্থার উন্নতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পোষাতে উন্নত দেশগুলোকে নতুন করে বিনিয়োগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আসন্ন কপ-২৭তম সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ভাবনা এবং প্রস্তাবনা তুলে ধরতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিশিষ্টজন। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসহ (সিপিআরডি) ২৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এ আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, 'বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক উপাত্ত যা বলছে, কপের মতো সমঝোতা সম্মেলনগুলো তা বাস্তবায়ন করছে না। এর অন্যতম কারণ জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের চর্চা নেই। বারবার দু-একটি দেশ পুরো প্রক্রিয়া থামিয়ে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের অভিযোজন, প্রশমন ও অর্থায়নে ঘাটতি রয়েছে।'

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সিপিআরডির নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা বলেন, 'উন্নত বিশ্ব অভিযোজন অর্থায়ন নিয়ে যে টালবাহানা শুরু করেছে, তা বন্ধ হওয়া দরকার। আগেই দেওয়া প্রতিশ্রুতির বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার বিতরণের ঘাটতি পূরণ করতে হবে। আর ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে অন্তত বার্ষিক ৬০০ বিলিয়ন দিতে হবে।'

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান শাহীন আনাম বলেন, 'আমরা দেখছি যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন দেশ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে। কিন্তু জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন মোকাবিলাও অভিযোজন করতে আমরা টাকা পাই না।'

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ওয়াটার এইডের পরিচালক পার্থ হেফাজ শেখ প্রমুখ।