বিশ্ব এইডস দিবস আজ। বিশ্বের অন্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও পালিত হবে দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্য 'অসমতা দূর করি, এইডসমুক্ত বিশ্ব গড়ি'। দিবসটি উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে রোহিঙ্গা, প্রবাসী শ্রমিক, শিরায় মাদক গ্রহণকারী এবং যৌনকর্মীদের মধ্যে এইডস আক্রান্তের হার বেশি। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি আক্রান্তদের ২৬ শতাংশই রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রোগীর চিকিৎসায় একাধিক
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- আক্রান্তদের ৭৭ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় আনা ও ভাইরাইসের উপস্থিতি সহনীয় মাত্রায় রাখা। এ লক্ষ্যমাত্রা থেকে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি।

২০২১ সালে নতুন করে ৭২৯ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই বছরে ২০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। রোহিঙ্গা ছাড়াও আক্রান্তদের মধ্যে সাধারণ মানুষের হারও ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিক ২০ শতাংশ, সমকামী ৯ শতাংশ, শিরায় মাদক গ্রহণকারী ৮ শতাংশ নারী এবং যৌনকর্মী ২ শতাংশ রয়েছে।

অধিদপ্তর জানায়, ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হয়। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬৯ জনে। প্রথম মৃত্যু হয় ২০০০ সালে। ২০১৬ সালে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪১ জনে। ২০১৯ সালে আরও বেড়ে হয় ১৭০। তবে ২০২০ সালে মৃত্যু কমে ১৪১ জন হয়।

এদিকে এইডস রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কমলেও বাড়ছে মৃত্যু। ইউএনএইডসের তথ্যমতে, দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। সেই হিসাবে বর্তমানে ১৪ হাজার জন এইডসে আক্রান্ত। তবে সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৭৬১ জন ও মারা গেছেন ১ হাজার ৫৮৮ জন। ইউএনএইডসের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আক্রান্তদের একটি বড় সংখ্যা চিকিৎসার বাইরে।

যেসব জায়গায় মিলছে এইডসের চিকিৎসা : অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের ২৩টি জেলায় এইডস চিহ্নিতকরণসহ চিকিৎসা ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ১১টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ১০টি সরকারি মা ও শিশু হাসপাতাল এবং ৯টি কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, সংক্রমণের হার কম হলেও ঘনবসতি, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন এবং অসচেতনতার কারণে এইচআইভির ঝুঁকি রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এইচআইভি সংক্রমণের হার অনেক বেশি। এ জন্য বাংলাদেশও ঝুঁকিতে। প্রতি জেলায় এইচআইভি টেস্টিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

ইউনিসেফের এইডস বিশেষজ্ঞ জিয়া উদ্দীন আহমেদ বলেন, দ্রুত রোগী শনাক্তে টেস্টিং সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। এখন আধুনিক অনেক ওষুধ পাওয়া যায়। এসব ওষুধে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, এইডস রোগী বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ রোহিঙ্গারা। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ নানা স্থানে প্রায়ই নানা কৌশলে ঢুকে পড়ছে তারা। চট্টগ্রামে প্রায়ই রোহিঙ্গা নাগরিক দেখা যায়। তাদের মাধ্যমেই এইডস ছড়িয়ে পড়ছে। চট্টগ্রামের বিশেষায়িত কেন্দ্রীয় চর্ম ও সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাবেক বিভাগীয় প্রধান সঞ্জয় প্রসাদ দাশ বলেন, চট্টগ্রামে আক্রান্ত নারীদের একটি বড় অংশ প্রবাসী স্বামীর মাধ্যমে এইডসে আক্রান্ত হচ্ছেন।