ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

মানববন্ধনে বক্তারা

‘সরকার বিচারব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করেছে’

‘সরকার বিচারব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ০১:১৮ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ০১:১৮

ছাত্রলীগের দুই নেতার দায়ের করা দুই মামলায় কারাবন্দী ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৪ নেতাকর্মীর মুক্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে 'সাধারণ শিক্ষার্থীদের' ব্যানারে এক মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও অংশ নেয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সারাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। সেখানে মত প্রকাশ করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলা এবং মামলা দায়ের পুরো দেশের চিত্র তুলে ধরে। আদালতের জামিন না দেওয়ায় কারাগারে থাকা তিন শিক্ষার্থী তাদের পরীক্ষা দিতে পারেননি।

এসময় তারা বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলার বিচার দাবি এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান।

ঢাবির আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সালেহ উদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোল্লা মোহাম্মদ ফারুকী আহসান, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক জাবির আহমেদ জুবেল, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বিভাগের নুসরাত তাবাসসুম, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের মোয়াজ্জেম হোসেন, উর্দু বিভাগের আহনাফ সাঈদ খান,  রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নুসরাত তাবাসসুম বলেন, কোনো উস্কানি ছাড়াই ছাত্রলীগ হামলা করে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েও তারা হামলা চালায়। এ ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর আদালত জামিন না দেওয়ায় তিনজন পরীক্ষা দিতে পারেনি৷ এভাবে সরকার বিচারব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করেছে। এভাবে অন্য দলের উপর ছাত্রলীগের হামলা বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। আমরা আবরার ফাহাদের স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলার বিচার চাই।

সালেহ উদ্দীন সিফাত বলেন, যুদ্ধাবস্থায়ও হাসপাতালে হামলার নজির নেই। সেখানে আহত অবস্থায় তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এরপর পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও আদালত জামিন না দিয়ে বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আহনাফ সাইদ খান বলেন, পুলিশ তাদের এমন সময় গ্রেপ্তার করে যে, তারা চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে পারেনি। এভাবে তাদের গ্রেপ্তার করা এবং জামিন না দেওয়ার দৃষ্টান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ। ছাত্রলীগের এই হামলার বিচার করতে হবে। গ্রেপ্তার সকল শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে।

মোল্লা মোহাম্মদ ফারুকী আহসান বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে এমনভাবে দমন করা হয়েছে, এখন আর স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ নেই। শুধুমাত্র একটি স্মরণসভা করার কারণে ২৪ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার টিকিয়ে রাখতে এসব শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। নানাভাবে বিচ্ছিন্ন-বিভক্ত এই ক্যাম্পাসকে বাঁচাতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে।

আরও পড়ুন

×