ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

গ্যাস সংকটে পাম্পের সামনে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি

গ্যাস সংকটে পাম্পের সামনে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি

রাজধানীর পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনের এ সময়ের চিত্র এ রকমই। জ্বালানির জন্য গাড়ির সারি অনেক ক্ষেত্রেই যানজট সৃষ্টি করছে। বৃহস্পতিবার তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে তোলা। ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ২০:৪৩

সর্বত্র গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। এ থেকে বাদ পড়েনি সিএনজি খাতও। স্বল্প চাপ, রেশনিং ও লোডশেডিংয়ে স্টেশনগুলোর অপারেশনাল সময় সংকুচিত হয়েছে। গ্যাস নিতে গাড়িগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাম্পের সামনে গাড়ির জট বাড়ছে। স্টেশন মালিকদের ব্যবসা এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে। জ্বালানির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকায় ভাড়ায় চালিত গাড়ি ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের আয় কমে গেছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে। এরমধ্যে সরকার রেশনিংয়ের সময় আরও দুই ঘণ্টা বাড়াতে চাইছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

দেশে গ্যাসের ঘাটতি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। দৈনিক ৩৫০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে ২৬৭ কোটি ঘনফুট। বিশ্ব বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় এলএনজির আমদানি কমেছে। দেশীয় ক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ, শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি সব খাতেই ঘাটতি বেড়ে গেছে।

সিএনজি খাতে গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছেন পাম্প ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারী উভয়েই। গতকাল দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিল, মালিবাগ, তেজগাঁও, মগবাজার, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় সিএনজি স্টেশনগুলোর সামনে গ্যাস নিতে আসা গাড়ির দীর্ঘ সারি। সময় যত বাড়ছে লাইন তত দীর্ঘ হচ্ছে। রাজধানীতে বেশিরভাগ পাম্প প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় গাড়ির এই লাইন মূল সড়কে যানজটের সৃষ্টি করেছে।

মালিবাগ এলাকার একটি সিএনজি পাম্পের সামনে গ্যাস নিতে আসা উবার চালক হেমায়েত উল্লাহ বলেন, 'একটা কল এসেছিল কিন্তু গ্যাস কম থাকায় তা বাতিল করে সাড়ে ৪টার দিকে পাম্পে আসি। এখন সাড়ে ৫টা বাজে। সামনে আরও ১০-১২টা গাড়ি আছে। ৬টায় পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস নিতে না পারলে গাড়ি না চালিয়েই বাসায় যেতে হবে। বাসায় গেলে আজকে আয়-রোজগার আর হবে না।'

বাড্ডা এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক রায়হান বলেন, আধাঘণ্টা ধরে চারটি স্টেশন ঘুরেছেন। সব খানেই বড় লাইন। তাই গ্যাস না নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে কথা হয় মালিবাগ মোড়ে। তিনি বলেন, পাম্প খুলবে রাত ১১টায়। তখন গাড়িতে গ্যাস ভরতে হবে পরের দিনের জন্য। গাড়িচালকেরা বলছেন, শুধু গ্যাস নিতেই প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়।

স্টেশন মালিকরা বলছেন, গ্যাস সংকটে তাঁদের ব্যবসায় ধস নেমেছে। স্বল্প চাপের কারণে গাড়িগুলোর গ্যাস নিতে বেশি সময় লাগে। রেশনিংয়ের আওতায় দিনে ৫ ঘণ্টা স্টেশন খোলা হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকে। সব মিলিয়ে ঢাকায় ৮-৯ ঘণ্টা এবং ঢাকার বাইরে ৫-৬ ঘণ্টার বেশি ব্যবসা হয় না। তাঁদের মতে, মধ্যমানের একটি কম্প্রেসর চালিয়ে ৭-৮ মাস আগেও ২৪-২৫ হাজার টাকা আয় হতো। এখন তা ৮-১০ হাজারে নেমে এসেছে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এক সিএনজি ব্যবসায়ী সমকালকে বলেন, তাঁদের গ্যাস পাওয়ার কথা ১৫ পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চি চাপে)। অধিকাংশ সময় পাওয়া যায় ৩-৪ পিএসআই। ঠিকমতো চাপ থাকলে ঘণ্টায় গড়ে ৫০টি প্রাইভেটকারে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয়। এখন যে চাপে গ্যাস মিলে তাতে ৭-৮টি গাড়িতে গ্যাস দেওয়া যায়।

সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ফারহান নূর সমকালকে বলেন, চাপস্বল্পতা, রেশনিং ও লোডশেডিংয়ের কারণে বিক্রি এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। লোডশেডিংয়ে অনেক পাম্প মালিক জেনারেটর চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। গ্যাসের চাপ কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা হচ্ছে না। ফলে লোকসান আরও বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সিএনজি স্টেশনগুলো মোট সরবরাহ করা গ্যাসের মাত্র ৩ শতাংশ ব্যবহার করে কিন্তু দাম দেয় সর্বোচ্চ। তারপরও তাঁরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বর্তমানে সিএনজি স্টেশনগুলো সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকে, যা গত ১ মার্চ থেকে কার্যকর হয়। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা গ্যাস বিক্রি করত না স্টেশনগুলো। এটা গত সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশন আরও দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখতে চাইছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মঙ্গলবার সিএনজি স্টেশন মালিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান সমকালকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। দেশে সিএনজি স্টেশনের সংখ্যা প্রায় ৫০০। প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রি করা হয় ৪৩ টাকায়।

আরও পড়ুন

×