ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

৩ কোটি ৭৮ লাখ তামাকসেবী, বছরে মৃত্যু দেড় লাখের বেশি

৩ কোটি ৭৮ লাখ তামাকসেবী, বছরে মৃত্যু দেড় লাখের বেশি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ০৭:৫৩

দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সের ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য সেবন করেন। এ ছাড়া বাড়িতে ৪ কোটি ১০ লাখ এবং গণপরিবহন ও জনসমাগমস্থলে ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতিগ্রস্তের হার ৪২.৭ শতাংশ। এদিকে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর অকালে মৃত্যু হচ্ছে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের। আর তামাকজনিত রোগের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

'প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে অগ্রগতি' শিরোনামে এক মত বিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বুধবার রাজধানীর সোনারওগাঁও হোটেলের চিত্রা হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি, বীরেন শিকদার, শিরীন আখতার ও বাসন্তী চাকমা।

মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী ও বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে 'সাউথ এশিয়ান স্পিকার্স সামিট'-এ ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কিন্ত একটি তামাক কোম্পানিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৯.৪৯ শতাংশ শেয়ার এবং পরিচালনা পর্ষদে সরকারের প্রতিনিধিত্ব থাকায় তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কোম্পানিতে শেয়ার ও প্রতিনিধি থাকায় তারা সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করছে। তামাক নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও সময়ের প্রয়োজনে এই শেয়ার প্রত্যাহার করা জরুরি।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালি জাতি আন্দোলন করে কখনও খালি হাতে ফেরেনি। তাই তামাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও তাঁরা খালি হাতে ফিরবে না। তামাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে তামাকের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ সবাইকে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা দেশকে তামাকমুক্ত করতে পারব। তবে শুধু আইন করে দেশকে মাদকমুক্ত করা যাবে না। এর সঙ্গে পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা ও নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তামাকবিরোধী আইন পাশ হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।

সাবের হোসেন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত বাংলাদেশ ঘোষণার ২৫ বছর সময়সীমার মধ্যে ৭ বছর পেরিয়ে গেছে, এখনও রোডম্যাপ তৈরি হয়নি। তামাকের পেছনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়তে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সিমিন হোসেন রিমি বলেন, জেলা পর্যায়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল মাত্র পাঁচজন। মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সুফল পেতে হলে জনবল আরও বাড়াতে হবে। তামাকের বিকল্প হিসেবে খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে হবে। ছাত্র সংগঠনগুলোকে তামাকবিরোধী কার্যক্রম গ্রহণসহ ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।

আরও পড়ুন

×