ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সতর্ক নয় পুলিশ

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সতর্ক নয় পুলিশ

সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ১৩:৪৪

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে ব্যবহার করতে হবে- সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে পুলিশের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। তবে প্রায়ই দেখা যায়, অনেক পুলিশ সদস্য ওই নীতিমালা মেনে চলছেন না। অনেকে এমন মন্তব্য ও ভিডিও পোস্ট করছেন, যার কারণে পুলিশ বাহিনীকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। কেউ হিরো সাজতে গিয়ে আবার অনেকে হতাশা থেকে অপেশাদার মন্তব্য করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিন পুলিশ সুপারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনায় আবার সামনে এলো পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিদ্যমান নীতিমালা ভঙ্গের ঘটনা। যাঁদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কাজে-কর্মে তাঁদের মন ছিল না। আর বিব্রতকর বিভিন্ন ভুয়া তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা আদান-প্রদান করতেন। এ ছাড়া টিকটক, লাইকির মতো অ্যাপ ব্যবহারে পুলিশ সদস্যদের আগেও সতর্ক করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে, অথবা পুলিশবিষয়ক কোনো মন্তব্য আপলোড করার ক্ষেত্রে অতি সতর্ক থাকতে হবে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও অপেশাদার নানা মন্তব্য তাঁরা অনেকটা প্রকাশ্যে করতেন। অনেকের ধারণা, পদোন্নতি না পাওয়ার হতাশা বা আদর্শিক কারণে তাঁরা এমন আচরণ করতেন। পুলিশের অনেক সদস্য তাঁদের এই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকতে সাবধানও করেছিলেন।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের তথ্য নতুন নয়। একজন পুলিশ সুপারের নাচের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। বাহিনীর পোশাক পরেই টিকটিক ভিডিও করেন তিনি। এ ছাড়া বাহিনীর পোশাকে আপত্তিকর, দৃষ্টিকটু টিকটক ভিডিও করে শাস্তির মুখে পড়েন ১৩ পুলিশ সদস্য।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য নীতিমালা রয়েছে। এটা মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর পরও কেউ কেউ বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। কেউ হয়তো হতাশা থেকে করছেন। কিন্তু তাঁদের বুঝতে হবে, একটি মন্তব্য করলেই বঞ্চনা দূর হয় না। নানা কারণে সবাই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় যেতে পারেন না। কেউ চাইলে অন্য কোথাও গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন। সেই দরজা সবার জন্য খোলা থাকে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ালে ব্যক্তি হিসেবে ওই ব্যক্তি যেমন ছোট হন, আবার তাঁর পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। ইউনিফর্ম পরলে এর মর্যাদা রাখতে হয়। আবার অনেকে ভুয়া আইডি থেকে অপেশাদার মন্তব্য করেন। তাঁদের কারও কারও ধারণা, হয়তো এসব কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে না। বিশেষ করে পুলিশের নিচের সারির সদস্যদের এমন ধারণা থাকে।

গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। তাঁরা হলেন- পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী ও মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা এবং পুলিশ সদরদপ্তরের এসপি (টিআর) মুহম্মদ শহীদুল্ল্যাহ চৌধুরী। তাঁদের মধ্যে মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং অন্য দু'জন ১২তম ব্যাচের। বাধ্যতামূলক অবসরের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের মাধ্যমে ভুয়া তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি সামনে আসে।
তবে মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী বলেন, মিশনে থাকাকালে ফেসবুকে তাঁর একটি অ্যাকাউন্ট ছিল। ৫-৭ বছর ফেসবুক ব্যবহার করছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া তথ্য আদান-প্রদানের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয়।
কপালে টিপ পরা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ করে ফেসবুকে মন্তব্য করায় সিলেটে এক পুলিশ পরিদর্শককে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ফেসবুক লাইভ করে আলোচনায় এসেছিলেন এক পুলিশ সদস্য। তাঁর বক্তব্য ভাইরাল হলে পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরও আগে একজন রাজনীতিকের নাম উল্লেখ করে তিনি একটি ক্লাবের জুয়ার আসর থেকে ১৮০ কোটি টাকা আয় করেছেন- এমন অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে সাসপেন্ড হন পুলিশের এক পরিদর্শক। এ ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে শাস্তির মুখোমুখি হন একজন এএসপি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে পুলিশের যে নির্দেশনা তাতে বলা আছে, জাতীয় ঐক্য ও চেতনা পরিপন্থি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে, রাজনৈতিক মতাদর্শ, কোনো ব্যক্তি, রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা, আত্মপ্রচারণামূলক পোস্ট বা অসত্য ও অশ্নীল তথ্য প্রচার না করতে বলা হয়। তবে অনেক পুলিশ সদস্য প্রায় নিয়মিত আত্মপ্রচারণামূলক পোস্ট দিচ্ছেন। এমন সব মন্তব্য ফেসবুকে করছেন যাতে সবার কাছে 'হিরোগিরি' ফুটে ওঠে।

পুলিশের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালায় বলা আছে, রাষ্ট্র, সরকার বা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এ রকম কোনো পোস্ট, ছবি, ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, ট্যাগিং, রেফারেন্সিং বা শেয়ার করা যাবে না। রাজনৈতিক মতাদর্শ, জঙ্গি কর্মকা অথবা ধর্মীয় উগ্রবাদ সংশ্নিষ্ট কোনো কমেন্ট বা কন্টেন্ট আপলোড করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি ব্যতীত এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড, শেয়ার বা পোস্ট করা যাবে না।




আরও পড়ুন

×