ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ইসির প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে

দুই লাখ ইভিএম কেনায় ব্যয় হবে ৮৭১১ কোটি টাকা

দুই লাখ ইভিএম কেনায় ব্যয় হবে ৮৭১১ কোটি টাকা

আবু হেনা মুহিব

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ২২:৫৫

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসনের জন্য ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে একটি প্রকল্প প্রস্তাব গতকাল বুধবার পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এতে নতুন করে ২ লাখ ইভিএম সেট কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। ভোটে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে জনমত গঠন করতে ব্যাপক প্রচার চালানোর জন্য ২০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উত্থাপন করবে। তবে ভোটে এ মেশিন ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভক্তি রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভিএমের পক্ষে প্রচার চালানো হবে। এতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত আসনে ইভিএমে ভোট গ্রহণের জন্য ৩ লাখ ৩৮ হাজার সেট মেশিন প্রয়োজন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার সেট নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে। ইভিএম সেট কিনতেও অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি সেটের মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। কমিশনের হাতে থাকা বর্তমানের প্রতিটি সেট কেনা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি মেশিনে ১ লাখ টাকা করে বেশি দাম ধরা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, 'নির্বাচন ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা' নামে প্রকল্পটির কাজ আগামী মাসেই শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০টি আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্র থাকবে। এর মধ্যে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে ১৫০ আসনের ২৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাতটি করে ভোটকক্ষ থাকবে। প্রতিটি কক্ষে গড়ে দেড়টি করে মোট ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ ইভিএম সেটের প্রয়োজন হবে।

এর বাইরে ভোটারদের শিখনের জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুটি করে ৫০ হাজার এবং প্রশিক্ষণে ব্যবহারের জন্য আরও ২৫ হাজার সেটের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া রিজার্ভ হিসাবে আরও ৫০০ সেট অতিরিক্ত ইভিএমের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ৩৮ হাজার ইভিএমের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

জানা গেছে, চলমান প্রকল্পের আওতায় কেনা ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম সেট রয়েছে কমিশনের হাতে। এর মধ্যে ১২ হাজার বিকল হয়ে পড়ে আছে। ব্যবহার উপযোগী আছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ইভিএম সেট। অর্থাৎ নতুন করে ২ লাখ সেট কিনতে হবে। এসব সেট সংরক্ষণেও বিশাল ব্যয় গুনতে হবে। ১০টি অঞ্চলে স্টিল কাঠামোর ওয়্যারহাউস নির্মাণ করা হবে। এতদিন ইভিএম সেট সংরক্ষণে মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি বকেয়া বাবদ ৩৬ কোটি ২১ লাখ টাকা দাবি করেছে।
এর আগে ২০১৮ সালে নির্বাচন ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে একটি প্রকল্প নেয় নির্বাচন কমিশন। একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৫০ হাজার সেট ইভিএম কেনা হয়। ওই সব ইভিএমের বয়স এখন চার বছর। আগামী বছর ওই প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রকল্প প্রস্তাবে দেখা যায়, ইভিএম কিনতে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ৫৩৪টি ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যান কেনা হবে। এই খাতে ব্যয় হবে ২৬২ কোটি টাকা। আর জমিসহ ১০টি ওয়্যারহাউস করতে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। অন্য সব সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রস্তাবের এই ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ডলারের দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কথা উল্লেখ করা হয়েছে

আরও পড়ুন

×