ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

সংবর্ধিত হলেন রওনক জাহান

সংবর্ধিত হলেন রওনক জাহান

রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার বণিক বার্তা এবং বিআইডিএসের গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রওনক জাহানের সঙ্গে বিশিষ্টজন - সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২২ | ০১:৪৭

গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন চিন্তায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. রওনক জাহানকে সংবর্ধনা এবং প্রয়াত অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খানকে (মরণোত্তর) সম্মাননা দিয়েছে বণিক বার্তা ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। এ দুই গুণীজনের জীবন ও কর্মের প্রতি সম্মান ও স্বীকৃতি জানাতে মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের বলরুমে 'গুণীজন সংবর্ধনা ২০২২' অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ড. রওনক জাহানকে ক্রেস্ট তুলে দেন। আকবর আলি খানের পরিবারের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।

সংবর্ধিত হয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে ড. রওনক জাহান বলেন, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এই আয়োজনের জন্য। আমি অভিভূত এই সংবর্ধনার অনুষ্ঠানের জন্য, যা আমার অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি বলেন, বাবার চাকরিসূত্রে আমি দেশের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়াম সরকারি স্কুলে পড়েছি। আমার বাবাই আমার প্রধান শিক্ষক, যিনি চাইতেন তাঁর ছেলে ও মেয়ে সমানভাবে বেড়ে উঠবে। তাঁর মেয়ে হবে সোনার মেয়ে। আমার শিক্ষাজীবনের চমৎকার সময় কেটেছে হার্ভার্ডে; যেখানে আমি শিখেছি 'স্কাই ইজ মাই লিমিট'।

প্রয়াত আকবর আলি খানের পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তাঁর ভাতিজি রুবিনা খান। তিনি আকবর আলির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্মতিচারণ করেন।
গুণীজনদের সম্মাননা দেওয়ার এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, গুণীজনদের সংবর্ধনা জানাতে আমি আসতে পেরেছি।

বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। তিনি বলেন, 'জ্ঞানমনস্ক সমাজ ছাড়া বাংলাদেশ কোনোভাবেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে না। জ্ঞানমনস্ক সমাজের জন্য শুধু জ্ঞানমনস্ক হলেই হবে না, জ্ঞানমনস্কতাকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে।'

সূচনা বক্তব্যের পর সংবর্ধিত দুই গুণীজনের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া প্রয়াত ড. আকবর আলি খান স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সংবর্ধিত দুই ব্যক্তির জীবন ও কর্মের দিক নিয়ে আলোকপাত করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে যে দু'জন সংবর্ধনা পাচ্ছেন, সৌভাগ্যক্রমে দু'জনই আমার বেশ সুপরিচিত। রওনক জাহান নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথম সারির একজন ব্যক্তি। আমরা একই স্কুলে পড়েছি। আজকের এই দিনে উনাকে শুভেচ্ছা। আর ছোটবেলা থেকেই ড. আকবর আলি খান মেধাবী ছিলেন।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, রওনক জাহানকে নিয়ে কিছু বলার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি আমি নই। আজকের এই অনুষ্ঠান ড. আকবর আলি খানকে নিয়েও আমাকে স্মৃতিচারণ করতে হবে। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। আমি আশা করি, তিনি আজ আমাদের সঙ্গেই আছেন এবং আমার এ বক্তব্য শুনছেন। ড. আকবর আলি খান একজন পি ত, একজন দক্ষ আমলা। আজকের এই অনুষ্ঠানে তাঁর মতো একজন সম্মানিত এবং ভালো মানুষকে গুণীজন হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। রওনক জাহানও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। তিনি যেসব ক্ষেত্রে কাজ করেছেন, সবক'টিইে একজন পথিকৃৎ হিসেবে অবদান রেখেছেন।
দুই গুণীজনকে সম্মান জানিয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, রওনক জাহান গ্রাম থেকে উঠে এসে তিনি হার্ভার্ডে পড়েছেন। এরপর বিশ্বের সেরা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হয়েছেন। এটা কত বড় নারী উন্মেষের বিষয় বলে শেষ করা যাবে না।

একজন আমলা যে কতটা বুদ্ধিমান হতে পারেন, তার অনন্য উদাহরণ ড. আকবর আলি খান। গুণীজনদের মূল্যায়ন করার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে।

আরও পড়ুন

×