ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

ই-অরেঞ্জের প্রতারণা

বিএফআইইউ'র প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ হাইকোর্টের

বিএফআইইউ'র প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ হাইকোর্টের

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ০৭:১০ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ০৭:৪৫

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের প্রতারণার বিষয়ে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে বিএফআইইউকে ফের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ই-অরেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া মেহজাবীনের ভাই বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক শেখ সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। শুনানিতে বিএফআইইউ'র উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলেছেন, প্রতিবেদনটি খাপছাড়া।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও আব্দুল কাইয়ুম লিটন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক এবং বিএফআইইউ'র পক্ষে আইনজীবী শামীম খালেদ আহমেদ।

ই-অরেঞ্জ থেকে ৭৭ কোটি টাকার পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার ৫৪৭ জন গ্রাহকের পক্ষে মো. আফজাল হোসেনসহ ছয়জন গ্রাহক চলতি বছরের মার্চ মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। পরে ওই রিটের শুনানি নিয়ে ৭ এপ্রিল রুল জারির পাশাপাশি অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে বিএফআইইউকে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট, যার ধারাবাহিকতায় বুধবার প্রতিবেদন দাখিল করে বিএফআইইউ।

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার শুনানির শুরুতে বিএফআইইউর আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে আদালত বলেন, আপনারা প্রতিবেদনে দেখালেন। তারা অনেক টাকা উত্তোলন করেছেন, তাহলে সেই টাকা কোথায় গেল? প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা? ওই টাকা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে? প্রতিবেদনে বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই। আপনাদের এই প্রতিবেদনে আমরা সন্তষ্ট হতে পারিনি। এই প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি, এটি খাপছাড়া।

আর পুলিশের রিপোর্টের বিষয়ে আদালত বলেন, তাদের রিপোর্ট পরিষ্কার বা সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের ( দুদক) রিপোর্টেও বিষয়টি পাশ কাটানো হয়েছে। এ সময় রিটকারীদের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম আদালতকে বলেন, রিপোর্টে সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে আসেনি, এজন্য পূর্ণাঙ্গ করে একটি রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশনা চাচ্ছি। একটা ভুঁইফোর প্রতিষ্ঠানের নামে এত টাকা লেনদেন হচ্ছে- এই টাকা কোথায় যাচ্ছে, কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে, এর ভ্যাট ট্যাক্স দিচ্ছে কি-না— সেটা তো এনবিআরের দেখা উচিত। আর বিএফআইইউর কাজটা কী?

তখন আদালত বলেন, এ সমস্ত লোকের কারণেই ঝামেলা হচ্ছে। দেশে কত উন্নয়ন হয়েছে, হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে গিয়ে দেখেছি, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ রাস্তাঘাটের কি উন্নয়ন হয়েছে। দেখলে মনে হবে না দেশের মধ্যে আছি। কতিপয় দুর্নীতিবাজ লোকের কারণে এখন সংকট তৈরি হচ্ছে। আমরা কাজ করছি জনগণের জন্য। দেশ সোনার বাংলা হোক— সেটা আমরা চাই।

পরে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৪ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করে দেন। এ সময়ের মধ্যে নতুন করে বিএফআইইউ, দুদক, পুলিশ প্রধানকে রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×