ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বিশেষ মন্তব্য

মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে রাষ্ট্র

মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে রাষ্ট্র

সুলতানা কামাল

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১৩:৪৯

প্রায় ২৩ বছরের নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নিয়েছে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় হলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। এই আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি স্তরে আমরা বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ণয় করেছি। যার নির্যাস ব্যক্ত হয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে। সেখানে আমরা বলেছি, বাংলাদেশ হবে এমন একটি দেশ যেখানে বিরাজ করবে সাম্য, সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মর্যাদা।

ঘোষণাপত্রের আলোকে রচিত আমাদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে আমরা মৌলিক অধিকারের অঙ্গীকারগুলো লিপিবদ্ধ করেছি। সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে, ধর্মসহ কোনো কারণেই কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র কোনো রকম বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। অথচ সেই সংবিধানেই একটি বিশেষ ধর্মকে রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সামরিক শাসক এরশাদের আমলে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে এটা করা হয়েছিল, যা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শাসকরাও বজায় রেখেছেন।

যদিও আওয়ামী লীগ সরকার বাহাত্তরের সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি 'ধর্মনিরপেক্ষতা' ফিরিয়ে এনেছে, যা এর আগে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এক কলমের খোঁচায় বাতিল করেছিলেন জেনারেল জিয়া। তবে বাস্তবতা হলো, বিগত কয়েক বছর ধরেই সংখ্যালঘু জনগণের নিরাপত্তা বিধানে রাষ্ট্রের ভূমিকা স্পষ্টতই প্রশ্নবিদ্ধ।

সংবিধানের ৩৩ থেকে ৩৫ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত গ্রেপ্তার, আটক, বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে সাংবিধানিক নির্দেশনা রয়েছে। এর পরও বিনা বিচারে আটক, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নারী ও শিশু নির্যাতন, প্রতিকারহীন দুর্নীতি- সর্বোপরি বিচারহীনতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমরা দিন অতিবাহিত করছি। ফলে এ কথা বলা অন্যায় হবে না যে, নাগরিকদের এই মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করতে এবং সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

এ ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুধাবনযোগ্য। সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংবিধান প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্য অর্থাৎ বৈষম্যমূলক সব আইন বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু পারিবারিক আইনসহ আরও কিছু বৈষম্যমূলক আইন এখনও বলবৎ আছে, যা মৌলিক অধিকারের সরাসরি পরিপন্থি। সরকার গঠিতই হয় সংবিধানমতে দেশ চালনার শপথ নিয়ে। সরকারের নৈতিক দায়িত্ব সংবিধানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃঢ় থাকা।
বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী

আরও পড়ুন

×