নন্দিত কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত শেষ ছবি 'ঘেটুপুত্র কমলা' ২০১২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সর্বাধিক ৮টি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে। ছবিটিরজন্য চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে দুটি পুরস্কার পাচ্ছেন প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ। এবার সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে ফরিদুর রেজা সাগর প্রযোজিত ও শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত 'উত্তরের সুর'। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে ২০১২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার আজীবন সম্মাননাসহ মোট ২৪টি শাখায় পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন খলিল উল্লাহ খান। এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়।





'ঘেটুপুত্র কমলা' ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী মামুন, শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ইমন সাহা, শ্রেষ্ঠ রূপসজ্জাকর খলিলুর রহমান, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান, শ্রেষ্ঠ সম্পাদক ছলিম উল্লাহ ছলি এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জাকর হয়েছেন এসএম মাঈনুদ্দিন ফুয়াদ। 'পিতা' ছবির 'আয়নারে ও আমার আঁধার রাতের আয়না' গানের জন্য ইমন সাহা সেরা সুরকার হিসেবেও পুরস্কার পাচ্ছেন।

সেরা ছবিসহ 'উত্তরের সুর' পেয়েছে চারটি পুরস্কার। ছবিটির জন্য লুসি তৃপ্তি গোমেজ সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী, শাহনেওয়াজ কাকলী সেরা কাহিনীকার এবং মেঘলা পেয়েছেন শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার।





'খোদার পরে মা' ছবির জন্য সেরা অভিনেতা হয়েছেন শাকিব খান। এ ছবির 'মা তুমি আমার আগে যেওনাকো মরে' গানের জন্য পলাশ সেরা গায়ক আর মিল্টন খন্দকার হয়েছেন সেরা গীতিকার।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচটি পুরস্কার গেছে রেদওয়ান রনি পরিচালিত 'চোরাবালি'র ঘরে। এ ছবির জন্য জয়া আহসান সেরা অভিনেত্রী, এটিএম শামসুজ্জামান সেরা পার্শ্ব অভিনেতা, শহীদুজ্জামান সেলিম সেরা খল অভিনেতা, রেদওয়ান রনি সেরা সংলাপ রচয়িতা ও রিপন নাথ হয়েছেন সেরা শব্দগ্রাহক।





'তুমি আসবে বলে' ছবির 'যখন তাকে দেখেছি' গানের জন্য সেরা গায়িকার পুরস্কার পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। 'রাজা সূর্য খাঁ' ছবির জন্য কলমতর ও উত্তম গুহ যৌথভাবে সেরা শিল্প নির্দেশক হয়েছেন।





তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই ২০১২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।

দেড়শ' বছর আগে হবিগঞ্জ জেলার পটভূমিতে এক প্রমোদ বণিকের কাহিনী নিয়ে নির্মিত 'ঘেটুপুত্র কমলা' মুক্তি পায় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে। নিজের বানানো ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখে যেতে পারেননি হুমায়ূন। বেশ কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মারা যান।

১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হুমায়ূন আহমেদের 'আগুনের পরশমণি' ছবিটিতে ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়েছিল। তিনি মোট ৭টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।


মন্তব্য করুন