সোলায়মান খান সাত দিনের রিমান্ডে

শাহ্জালাল ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৪      

চট্টগ্রাম ব্যুরো


ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের মামলায় শাহ্জালাল ব্যাংকের পরিচালক সোলায়মান খানকে সাত দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালত সোলায়মান খানের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থ আত্মসাৎ করাতে ব্যাংকের পরিচালক কীভাবে সহযোগিতা করেছেন, তা উদ্ঘাটন করার স্বার্থে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা সোলায়মানের ১০ দিনের রিমান্ডআবেদন করেছিলেন। এদিকে এ আসামিকে আদালতে আনার খবরে বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা সেখানে সমবেত হন। এ সময় সোলায়মান খানের ভাড়াটে সমর্থকরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করলে চার সাংবাদিক আহত হন। এ হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।





আদালতের হাজতখানা থেকে দুপুর ২টা ৫ মিনিটে শাহ্জালাল ব্যাংকের পরিচালক সোলায়মান খানকে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তোলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী, দুদকের পিপি মাহমুদুল হক মাহমুদ ও শাহ্জালাল ব্যাংকের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আসামি পক্ষে সাবেক মহানগর পিপি কামাল উদ্দিন আহম্মদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, ইলিয়াস খান, ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ও সানোয়ার হোসেন লাভলু শুনানিতে অংশ নেন। শুনানিতে চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'শাহ্জালাল ব্যাংকের পরিচালকের যোগসাজশে ১৪০ কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে মামলা হয়েছে। ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, এসকে স্টিলের আত্মসাৎকৃত এ টাকার একটি অংশ ৬১টি চেকের মাধ্যমে ১৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা গেছে পরিচালক সোলায়মান খানের কাছে। তাই আইন অনুযায়ী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির ১৫ দিন রিমান্ড চাইতে পারতেন। তিনি ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। এ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড হেফাজতে দেওয়ার আবেদন করছি। তাকে রিমান্ডে না দিলে আসল ঘটনা প্রকাশ পাবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় হাইপ্রোফাইল এ আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি।'





আসামি পক্ষের আইনজীবী সাবেক মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহম্মদ রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, 'যে ঘটনায় এ মামলাটি হয়েছে একই ঘটনায় এর আগে আরেকটি মামলা হয়েছে। তাই এ মামলা চলতে পারে না। এমনকি মামলায় যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিলেও এ রকম মামলা হতে পারে না। ব্যাংকের দুই পরিচালকের দ্বন্দ্বের কারণে সোলায়মান খানের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাই এ মামলায় আসামিকে রিমান্ড দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।' পরে আদালত আসামি সোলায়মান খানকে সাত দিনের রিমান্ডে দিলে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।





রাউজানের আওয়ামী লীগ দলীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সাংবাদিকদের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৭-৮ জনের এ দল সোলায়মান খানকে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই কেউ যেন ছবি তুলতে না পারে সে জন্য বেষ্টনী তৈরি করে। এ সময় ক্যামেরা নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে ধাক্কা-ধাক্কি ও কিলঘুষি মারতে থাকে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। তাদের হামলায় সমকালের ফটোসাংবাদিক মো. রাশেদ, রিপোর্টার আহমেদ কুতুব, চ্যানেল২৪-এর স্টাফ রিপোর্টার জামশেদুল করিম ও ক্যামেরাপারসন শফিক আহমেদ সজিব আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমকালের ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরাও। এ সময় আদালতে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা ছিল নীরব দর্শক। অবশ্য ঘটনার পর আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এজাজ ইউসুফী, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক মহসীন চৌধুরী এবং টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল হক হায়দরী ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।





আদালতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বলেন, 'এমন পরিস্থিতি সচরাচর না হওয়ায় আগে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। হঠাৎ করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। আহত চার সাংবাদিক লিখিত অভিযোগ দিলে ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।'