ইউনাইটেডে মরদেহ আটকে রাখার ঘটনায় তদন্ত শুরু

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক


রাজধানীর বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হাসপাতালে মরদেহ আটকে রাখার ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি কাজ শুরু করেছে।


 


সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মোশাররফ হোসেন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার তপাদার অনাকাঙ্খিত ঘটনা তদন্তে ওই হাসপাতালে যান। তারা রোগীর মরদেহ আটকে রেখে চিকিৎসা খরচ আদায়ের ঘটনা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেন। কমিটি পর্যায়ক্রমে মৃত আসলামের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবে।


 


যুগ্মসচিব মোশাররফ হোসেন সমকালকে বলেন, 'ইউনাইটেড হাসপাতালের অনাকাঙ্খিত ঘটনা বিষয়ে সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হবে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।'


 


গত শুক্রবার রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. আসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। স্বজনরা মরদেহ আনতে হাসপাতালে গেলে কর্তৃপক্ষ বকেয়া সব টাকা পরিশোধ ছাড়া মৃতদেহ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা আসলামের মরদেহ হিমাগারে রেখে দেয়।


 


পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ মাসে ১৫ লাখ টাকা পরিশোধের শর্তে আসলামের মরদেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেয়। কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা মওকুফ করেছে। বকেয়া ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জানুয়ারির মধ্যে পরিশোধের শর্ত দেওয়া হয়।


 


এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।


 


আসলামের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম জানান, জানুয়ারির মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকারনামা নিয়েছে বেসরকারি এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও শর্তে রয়েছে।


 


ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, 'তদন্ত কমিটির কাছে তারা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। রোগী আসলামের কাছে পাওনা প্রায় ২০ লাখ টাকার মধ্যে বেশির ভাগই জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মূল্য বাবদ ব্যয় হয়েছে। এ টাকা পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে-এ কথাও তদন্ত কমিটিকে জানানো হয়েছে।'