ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস আজ

অধিকার কাগজে-কলমে

অধিকার কাগজে-কলমে

তবিবুর রহমান

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ০০:১০

আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস আজ। জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য 'অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনমুখী পদক্ষেপ :প্রবেশগম্য ও সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণে উদ্ভাবনের ভূমিকা'। কিন্তু জাতীয়ভাবে প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষিত নেই। আইন থাকলেও তাদের অধিকার এখন কাগজে-কলমে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান খান সমকালকে বলেন, আইন প্রয়োগে কাঠামোগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বরাদ্দ নেই। ফলে আইন কাগজে-কলমে রয়ে গেছে, কার্যকর প্রয়োগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নতি হলেও কাজের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে ৩১তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২৪তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ৯ বছরেও পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩। তাদের অধিকারের বিষয়ে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে দেশের ২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ শারীরিক, মানসিক বা যে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার। এ হিসাবে দেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৪৭.৪২ লাখ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের জরিপের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২০২১ সালের জরিপে বলা হয়, দেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৩।

চলতি বছরের জুন মাসে পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত ন্যাশনাল সার্ভে অন পারসন্স উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস (এনএসপিডি)-২০২১ জরিপে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধীরা আশঙ্কাজনকহারে পিছিয়ে আছে। জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় শতভাগ তালিকাভুক্ত হলেও প্রতিবন্ধী শিশুদের ৫৮ শতাংশ স্কুলে যেতে পারছে না। নানা জটিলতায় ৭২ শতাংশ প্রতিবন্ধীর কোনো কর্মসংস্থান মিলছে না।

৩৬ হাজার পরিবারে চালানো জরিপ বলছে, দেশের জনগণের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার ২ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলের ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ মানুষের একজন প্রতিবন্ধী। ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ২৭ দশমিক ২১ শতাংশের কর্মসংস্থান হয়েছে। পুরুষের মধ্যে এই হার ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং নারীর মধ্যে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বেশি সংখ্যক প্রতিবন্ধী রয়েছে।

জরিপে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী শিশুর মধ্যে ৪০ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষা এবং ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষায় অংশ নিয়েছে। সিলেট বিভাগে এই পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক। কারণ, প্রাথমিক শিক্ষায় সিলেটের ৬৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিশুর অংশগ্রহণ রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগ এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে- ২৯ দশমিক ২৭ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। প্রতিবন্ধীদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ সহায়ক ডিভাইস ব্যবহার করে, অর্থাৎ ৮১ দশমিক ৫৩ ভাগেরই ডিভাইস মিলছে না। মাত্র ৯ দশমিক ৭১ শতাংশের বাড়িতে বিশেষ ধরনের স্যানিটেশন সুবিধা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, প্রতিবন্ধীদের সরকারের ভাতার আওতায় আনতে হবে। প্রশিক্ষণ দিয়ে আয়-সংশ্নিষ্ট কাজে তাদের লাগাতে হবে। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) ফরিদ আহমেদ মোল্লা বলেন, ২৩ লাখ ৬৫ হাজার প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। ১ লাখ শিক্ষার্থীর বৃত্তির ব্যবস্থা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় কর্মক্ষেত্র কম হলেও বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×