ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

ল্যানসেটের প্রতিবেদন

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মৃত্যুর হার বেড়েছে ১৪৮ শতাংশ

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মৃত্যুর হার বেড়েছে ১৪৮ শতাংশ

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০:১৭ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০:৪০

দ্রুত ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গত দুই দশকে বাংলাদেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে তাপজনিত মৃত্যুর হার ১৪৮ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হিট স্ট্রোক, হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে তারা। সম্প্রতি স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে ল্যানসেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামলীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০০০ থেকে ২০০৪ এবং ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাপজনিত মৃত্যুর হারের তুলনা করে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এ বিশেষ প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

‘২০২২ স্বাস্থ্য ও জলবায়ু- সম্পর্কিত ল্যানসেট কাউন্টডাউন রিপোর্ট বাংলাদেশে উদযাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চাইল্ড লন, হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও ল্যানসেট কাউন্টডাউন: মলা ট্র্যাকিং প্রোগ্রেস অন হেলথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৯৮৬ থেকে ২০০৫ সালের তুলনায় ২০২১ সালে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা ০.৪৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালে ছিল ০.০৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। ভুগছে উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগের জটিলতায়। স্বাস্থ্যের ওপর বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় দেশে সুনির্দিষ্ট জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে বলেও এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বের ৫১টি প্রতিষ্ঠানের ৯৯ গবেষক প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। তাদের একজন ইতালির ভেনিস নূরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌর দাশগুপ্ত। মূল উপস্থাপনায় এই প্রবাসী বিজ্ঞানী বলেন, ২০০০-০৪ সালের তুলনায় ২০১৭- ২০২২ সময়কালে অতি তাপমাত্রার কারণে মৃত্যু বেড়েছে ১৪৮ শতাংশ। সংখ্যায় ১ হাজার ৪৩০। সংখ্যাটি আপাতদৃষ্টে কম দেখালেও এর তাৎপর্য অনেক। আরকে উপস্থাপনায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রতিবেদনের সহলেখক ও গ্রানথাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এলিজাবেথ রবিনসন।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচক ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সালিমুল হক বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কোনো দেশ তৈরি নয়। জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় দেশে উপযুক্ত জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অভাব আছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে প্রাণিজগৎ ও মানুষের সীমানা মুছে যাচ্ছে, একে অন্যের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়ছে।

পানি বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব দৃশ্যমান। উপকূলের কয়েকটি অঞ্চলে জনসংখ্যা বাড়ছেনা, কমছে। কিছু এলাকায় উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ বেড়েছে। কিছু এলাকায় কিডনি রোগ বেড়ে যাওয়ার কারণ হয়তো এই যে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া। এর ফলে মানুষ পানি পান কমিয়ে দিয়েছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাইন্ডেশনের পরিচালক বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের উপর ল্যানসেট কাউন্টডাউন চালু হয়।

আরও পড়ুন

×