ফরিদা ইয়াসমিন আর নেই

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০১৫      

সমকাল প্রতিবেদক

ফরিদা ইয়াসমিন -ফাইল ছবি

চলে গেলেন ষাটের দশকের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে ... রাজিউন) তিনি। তার মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গনে তার শ্রোতা ও ভক্তদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
 
তিনি স্বামী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মাসুদ রানার স্রষ্টা সাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী এবং বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন ও সাবিনা ইয়াসমীনের বোন।
 
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণে দুই সপ্তাহ আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন।
 
সাবিনা ইয়াসমীনের মেয়ে ফাইরুজ ইয়াসমীন বাঁধন জানান, ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহ বারডেমে হিমঘরে রাখা হবে। মরদেহ রোববার তার সেগুনবাগিচার বাসায় নেওয়া হবে। পর দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে তাদের পৈতৃক বাড়ি সাতক্ষীরায়। তারা পাঁচ বোনের মাঝে ফরিদা ইয়াসমিন, ফওজিয়া খান, নীলুফার ইয়াসমীন এবং সাবিনা ইয়াসমীন সঙ্গীতাঙ্গনে স্বনামখ্যাত। ফরিদা ইয়াসমিন গান শিখেছেন দুর্গাপ্রসাদ রায়ের কাছে। কয়েক বছর আগে সর্বশেষ ফরিদার গাওয়া গান নিয়ে একটি অ্যালবাম বাজারে আসে।
 
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত সিনেমা আর রেডিওর গানে ফরিদা ইয়াসমিন অসম্ভব নাম করেছিলেন। সে সময় তিনি আধুনিক বাংলা, উর্দু গান ও গজলে বিশেষ পারদর্শিতা দেখান। তার বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে, 'তুমি জীবনে মরণে আমায় আপন করেছো', 'জানি না ফুরায় যদি এই মধুরাতি', 'তোমার পথে কুসুম ছড়াতে এসেছি', 'খুশির নেশায় আজকে বুঝি মাতাল হলাম'।
 
ফরিদা ইয়াসমিনের জন্ম মুর্শিদাবাদে নানার বাড়িতে। এক সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন তারা। সেখানেই তার গান শেখা শুরু। মায়ের কাছ থেকেও গান শিখেছিলেন। পঞ্চাশের দশকের শেষার্ধে ঢাকা ইডেন গার্লস কলেজে এক সঙ্গীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গান গাইবার জন্য ফরিদা ইয়াসমিনও গেলেন। তার গান শুনে সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার আবদুল আহাদ মুগ্ধ হয়ে ফরিদাকে বললেন, তুমি রেডিওতে অডিশন দাও। দেখবে একদিন তোমার খুব নাম হবে। রেডিওতে অডিশন দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন টিকে গেলেন। এরপর নিয়মিত রেডিওতে গান গাওয়া শুরু। অল্পদিনের মধ্যেই ফরিদা ইয়াসমিনের নাম দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রেডিওতে ফেরদৌসী বেগম ও আঞ্জুমান আরা বেগমের অসম্ভব নাম। তাদের পাশে ফরিদা ইয়াসমিন নামটিও এক সময় যুক্ত হয়। এক সময় বলা হতো, রেডিও মানে ফেরদৌসী, আঞ্জুমান আরা আর ফরিদা ইয়াসমিন।
 
১৯৫৯ সালে ওস্তাদ মতি মিয়ার কাছে গান শিখতেন ফরিদা ইয়াসমিন। সে বছর তিনি ফরিদা ইয়াসমিনকে 'এ দেশ তোমার আমার' ছবিতে গান গাওয়ার জন্য সুযোগ করে দেন। 'জানি না ফুরায় যদি এই মধুরাতি' গানটি ছিল 'রাজা এলো শহরে' ছবিতে। ফরিদা ইয়াসমিনের গাওয়া এ গানটি তাকে অসম্ভব খ্যাতি এনে দিয়েছিল। সঙ্গীত ভুবনে ফরিদা ইয়াসমিন যখন খ্যাতির তুঙ্গে, তখন কাজী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

বিষয় : ফরিদা ইয়াসমিন