ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি

প্রাথমিকেই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক, কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক!

প্রাথমিকেই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক, কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক!

ফাইল ছবি

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১০:০২

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে নূন্যতম স্নাতক। অথচ এর ওপরের শিক্ষা স্তর, মাধ্যমিক ও কলেজগুলোর কমিটির সভাপতির নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা 'উচ্চ মাধ্যমিক' নির্ধারণ করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য সংশোধন করা হচ্ছে বর্তমান 'গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা'। বিষয়টি বিস্ময়কর বলে দাবি করে শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্তর যত ওপরে হবে, পরিচালনা কমিটির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতাও তেমনি উচ্চতর হবে। নইলে তো সামঞ্জস্য থাকবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এতদিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলোর সভাপতি ও সদস্যদের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা ছিল না। ফলে দেশের অনেক স্থানে স্বশিক্ষিত অনেকেও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দিতে প্রবিধানমালা বদলের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। সংশোধিত প্রবিধানমালার নাম দেওয়া হচ্ছে 'মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৩'। শিগগির নীতিমালাটি সভা করে চূড়ান্ত করা হবে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি বা এসএমসি এবং কলেজের পরিচালনা পর্ষদকে বলা হয় গভর্নিং বডি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির যোগ্যতা স্নাতক বা ডিগ্রি পাস বাধ্যতামূলক করার পর সেখানে বড় পরিবর্তন এসেছে। অথচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে তা আসেনি। মাধ্যমিকের আগের 'প্রবিধানমালা-২০০৯'-এ বলা হয়েছিল, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও কলেজের গভর্নিং বডির সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচনের পর নির্বাচিতরা সাত দিনের মধ্যে সভাপতি নির্বাচনের জন্য সভা ডাকবেন। সে অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতের ভিত্তিতে কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা হতো। এ ক্ষেত্রে কোনো সদস্য কিংবা স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে একজনকে বাছাই করা হতো।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হতো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে স্নাতক পাস লাগবে বলে নীতিমালা জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনেকাংশে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। এর পর মাধ্যমিকেও সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। অবশেষে সব শিক্ষা বোর্ড, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদদের পরামর্শে এই মানদণ্ড আপাতত এইচএসসি পাস নির্ধারণ করা হয়।

জানা গেছে, নতুন প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, মাধ্যমিকের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির নূন্যতম এইচএসসি পাস হতে হবে। একজন ব্যক্তি দুটি মাধ্যমিক ও দুটি কলেজ মিলিয়ে সর্বোচ্চ চারটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন। এ ছাড়া সরকারি আমলারা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনাপত্তি সনদ নিয়ে হতে পারবেন সভাপতি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার সমকালকে বলেন, প্রবিধানমালার সংশোধন নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। যতটুকু জানি, স্কুল ও কলেজের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন আরও কয়েকটি বিষয় সংযোজন করা হয়েছে।

নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন এত কমানো হয়েছে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, তাঁরাও প্রথমে নূন্যতম যোগ্যতা স্নাতক করার কথাই ভেবেছিলেন। পরে শিক্ষাগত যোগ্যতা কমানোর নির্দেশনা আসে ওপর থেকে। সম্ভবত তৃণমূলের রাজনৈতিক নেতাদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যও এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। শিক্ষাবিদ ও জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, প্রাথমিকের চেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে সভাপতির যোগ্যতা কম হওয়ার অবকাশ নেই। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এটা তাদের সুবিবেচনায় নেবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতির যোগ্যতা অবশ্যই ভিন্নতর হবে, তবে তা হবে উচ্চতর। বহু আগে থেকেই তো আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির নূন্যতম যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করার কথা বলে আসছি। অনার্স-মাস্টার্স কলেজগুলোর গভর্নিং বডির সভাপতির যোগ্যতা তো আরও বেশি হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন

×