বিজিবির প্রতিবেদন

সীমান্তে হত্যা বাড়ছে

আট মাসে নিহত ২৪ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০১৬      

'রাশেদ মেহেদী ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২৪ বাংলাদেশের নাগরিক খুন হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই নিহত হয়েছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে। কিছু বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয়েছেন ভারতের নাগরিকদের দ্বারাও। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তুচ্ছ কারণে হত্যা করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের। অন্যদিকে একই সময়ে ভারতের ১২২ জন নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করেছেন। তাদের মধ্যে ৭৩ জনকে সুস্থ অবস্থায় বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৪৯ জনকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বাংলাদেশের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিএসএফ সদস্যরা নীতিমালা না মেনে হত্যা, নির্যাতনসহ অমানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেও বিএসএফ প্রধানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে। গত সোমবার ঢাকায় শেষ হয়েছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে সীমান্তে ৪০ বাংলাদেশি খুন হয়েছিলেন।
২০১৫ সালে খুন হয়েছেন ৪৫ জন। অর্থাৎ সীমান্তে হত্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা ১৬ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে সীমান্তে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে পাঁচ হাজার ৪২ রাউন্ড গুলি, ৪২টি বন্দুক ও ৫৪ দশমিক ৮ কেজি বিস্ফোরক আটক করা হয়েছে। নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে অস্ত্র, গোলাবারুদ, নিষিদ্ধ ওষুধ ও মাদকদ্রব্য চোরাচালান হয়ে আসছে। বৈঠকে গৃহীত বিজিবি-বিএসএফের যৌথ পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত হত্যা নিয়ে যৌথ তদন্ত পরিচালনা ও সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে দু'পক্ষই সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্র দমন এবং চোরাচালান বন্ধে যৌথ পদক্ষেপ নিতে ঐকমত্য হয়েছে।


সীমান্তে হত্যা :প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশের দরিদ্র নাগরিকরা বিভিন্ন প্রয়োজনে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাতায়াত করেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি চিকিৎসাসেবা, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া এবং কিছু অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কেনা। শুধু সীমান্ত অতিক্রম নয়, জিরো লাইনের কাছে ভুলক্রমে চলে যাওয়ার কারণেও বাংলাদেশের নাগরিকরা হত্যার শিকার হয়েছেন। সে প্রমাণ বিজিবির কাছে আছে। দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হত্যার শিকার হওয়ায় অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে।


প্রতিবেদনে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেওয়া হয়। যেমন_ ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট নওগাঁর সাপাহারের করমুডাঙ্গা সীমান্তে ইসমাইল নামে এক দরিদ্র জেলে পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে অন্ধকারে জিরো লাইনের কাছাকাছি চলে যান। এ সময় ৩১ বিএসএফের একটি টহল দল তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি পালিয়ে আসেন এবং সাপাহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর পরই তার মৃত্যু হয়। তার পুরো শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। একইভাবে ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর যশোর শার্শা উপজেলার সীমান্ত এলাকার ইছামতি নদীতে মাছ ধরার সময় মনিরুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি জেলেকে হত্যা করেন বিএসএফ সদস্যরা। ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর ২১ বিএসএফের একটি দল দুর্গাপুরে বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে প্রায় ৫০০ গজ ঢুকে পড়ে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। বিএসএফ সদস্যরা গ্রামবাসীর গরু, ছাগলও নিয়ে যান।


এ ধরনের একাধিক ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ভারতীয়রা ধরা পড়লে বিজিবি (বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড) সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়। কোনো মারণাস্ত্র ব্যবহার বা শারীরিকভাবে আঘাত করে না। ৩১ মার্চ পর্যন্ত যে ১২২ ভারতের নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন তাদের কেউই শারীরিক আঘাতের শিকার হননি। কিন্তু বিএসএফ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রেই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। যদি বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে হত্যা কিংবা শারীরিকভাবে আঘাত করা গুরুতর অন্যায় বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।


সীমান্তে অন্যান্য অপরাধ :প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নিষিদ্ধ ওষুধ চোরাচালান হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গাঁজা ও ফেনসিডিলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সে সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। ২০১৫ সালে ধরা পড়েছিল ৪০টি বন্দুক, পাঁচটি রিভলবার, ৬৭টি পিস্তল, চার হাজার ৪৩ রাউন্ড গুলি, ২৬টি বোমা, ৪৪ দশমিক ৯ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ২৯টি আইডি ও ২৭টি ককটেল।
বিএসএফের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপের অপতৎপরতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের কোনো বিদ্রোহী গ্রুপের তৎপরতা বর্তমানে নেই। তবে এ-সংক্রান্ত তথ্য বিএসএফ সরবরাহ করলে সে ব্যাপারে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

রাশিয়া নামক এক জুজু বুড়ির ভয় ভর করেছে রিয়ালের ওপর। ...

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

'জমি চাই মুক্তি চাই' স্লোগানে ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল নেতা সিধু, ...

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

দুনিয়াব্যাপী কমান্ডো নাইফ এবং বিশেষ ধরনের ছুরি ও চাকু 'কোল্ড ...

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও ...

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

প্রতীক বরাদ্দের পরও বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী হামলার ...

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

১ আগস্ট ১৯৭১। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে দুপুর থেকেই ...

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলার ...

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ...