চলে গেলেন সৈয়দ শামসুল হক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬     আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

না ফেরার দেশে চলে গেলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক।
 
ক্যান্সারে আক্রান্ত এই কবি-কথাশিল্পী-নাট্যকার মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)।
 
সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কবি মুহাম্মদ সামাদ ও ইউনাইটেড হাসপতাল কর্তৃপক্ষ।
 
ফুসফুসের জটিলায় আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত এপ্রিলে যুক্তরাজ্য যান সৈয়দ শামসুল হক। সেখানে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে।
 
লন্ডনের রয়্যাল মার্সেডন হাসপাতালে চার মাস চিকিৎসার পর গত পহেলা আগস্ট দেশে ফেরেন ৮০ পেরোনো এই লেখক। দেশে ফিরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
 
১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ শামসুল হক। ১৯৫১ সালে লেখার জগতে পা রাখেন তিনি।
 
সেই থেকে একাধারে লিখেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, স্মৃতি, গান; করেছেন বেশ কিছু ধ্রুপদী সাহিত্যের বাংলা অনুবাদ। ষাট বছরের লেখকজীবন সৈয়দ শামসুল হকের।
 
মাত্র ২৯ বছর বয়সে ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। এছাড়াও পেয়েছেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৯), অলক্ত স্বর্ণপদক (১৯৮২), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩) ও একুশে পদক (১৯৮৪) সহ নানা পুরস্কার।
 
সৈয়দ হকের মৃত‌্যুর খবরে দেশের সাহিত‌্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
 
ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে কবির মরদেহ নেওয়া হবে তার গুলশানের বাসায়। সেখান থেকে এনে মরদেহ রাখা হবে হাসপাতালের হিমঘরে।
 
পরে বুধবার সকাল ১০টায় সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ নেওয়া হবে বাংলা একাডেমিতে। এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন‌্য কবির মরদেহে রাখা হবে ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
 
দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার পর কুড়িগ্রামে নেওয়া হবে কবির মরদেহ। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

বিষয় : সৈয়দ শামসুল হক সব্যসাচী লেখক