‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রের শিল্পী-কলাকুশলী সংবর্ধিত

প্রকাশ: ২৫ মে ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এর শিল্পী-কলাকুশলীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। বৃহস্পতিবার বিএফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব মিলনায়তনে তারা সংবর্ধনা গ্রহণ করেন।
 
ওরা ১১ জন ছবির শিল্পী-কলাকুশলীদের মধ্যে সংবর্ধনা নেন সৈয়দ হাসান ইমাম, মিরানা জামান, নূতন, কাজী ফিরোজ রশীদ, গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, প্রযোজক মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), চিত্রনাট্যকার কাজী আজিজ, পরিবেশক ইফখারুল আলম ও প্রধান সহকারী পরিচালক শামসুল আলম। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক এবং উত্তরীয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
 
বিশেষ অতিথি ছিলেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, নৃত্য পরিচালক সমিতির সভাপতি মাসুম বাবুল, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, পরিচালক শাহীন সুমন, শাহীন কবির টুটুল, অপূর্ব রানাসহ অনেকে।
 
তবে অনুষ্ঠানে নায়করাজ রাজ্জাক, খসরু ও এটিএম শামসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন না। প্রয়াত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের হয়ে সম্মাননা গ্রহণ করেন তার স্ত্রী জ্যোৎস্না কাজী। এ সময় তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের পর হঠাৎ একদল ছেলেমেয়ে বাসায় এসে ছবি বানানোর যজ্ঞ শুরু করে। শেষে ছবিটি যা দাঁড়াল, তা দেখে চোখে পানি এসে গিয়েছিল। আমি তখন চাষীকে জড়িয়ে ধরেছিলাম।’
 
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ছবির কলাকুশলীদের আমার হাতে সম্মাননা দিতে পেরে গর্ববোধ করছি। যে সময়ের ছবি, সেই সময়ের সাক্ষী আমি নিজেও। স্বাধীনতা-পরবর্তী অগোছালো সময়ে এই ছবি নির্মাণ করেছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। এই ছবি চিরদিন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস হয়ে থাকবে। সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, যুদ্ধের পরপর বাণিজ্যিক ছবি না বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ছবি বানালেন চাষী নজরুল ইসলাম। এ ছবির একজন আমি এখন ইতিহাসের সাক্ষী।
 
সোহেল রানা বলেন, মাছ বিক্রি করেও এই দেশে সিআইপি হওয়া যায়, কিন্তু চলচ্চিত্র জগতে কাজ করে সিআইপি হওয়া যায় না। স্বাধীন দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রে কাজ করে প্রথম চলচ্চিত্রকার যারা আছেন, তাদের কোনোভাবে সমাদৃত করা বা পুরস্কৃত করার কোনো কিছুই হয় না। পারলে হয়তোবা তিরস্কারই করা হয়।
 
তিনি আরও বলেন, ওরা ১১ জন ছবিতে যারা কাজ করেছেন, তার মধ্যে ৯৮ ভাগ লোক বিনা টাকায় কাজ করেন। আজকের এই মঞ্চে ওই সময়কার এমন দু-একজন উপস্থিতও আছেন।
 
অভিনেত্রী নূতন বলেন, এটা অনেক ভালো হতো যদি ওরা ১১ জন ছবির সবাই জীবিত থাকতে এই সম্মাননা জানানো হতো। তাহলে আমাদের সব কলাকুশলীর জীবন সার্থক হতো।
 
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জেমী।