সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। শুক্রবার সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বনানীর বাসভবন থেকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

আবদুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে মাহমুদুল হাসান বিশ্বাসের বরাত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির সমকালকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

বাংলাদেশের ১১তম রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমানের মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। আমৃত্যু তিনি নিভৃত জীবনযাপন করেন।

আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তার স্কুল ও কলেজ জীবন কাটে। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) ও আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ষাটের দশকে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে বরিশাল থেকে পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে ফেরেন। ১৯৭৭ সালে বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী এবং ১৯৮১-৮২ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।