ট্যানারির কারণে বুড়িগঙ্গার পর দূষিত হচ্ছে ধলেশ্বরী: নৌমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান— ফোকাস বাংলা

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ট্যানারির কারণে বুড়িগঙ্গার পর এখন ধলেশ্বরী নদী দূষিত হচ্ছে। কোটি মানুষকে দূষণের মুখে ফেলে দিয়ে কোনো শিল্পকে টিকিয়ে রাখার মানসিকতা লালন করা উচিত নয়।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আয়োজনে 'ট্যানারি দূষণ থেকে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী রক্ষায় করণীয়' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নৌমন্ত্রী বলেন, শিল্প মালিকদের মধ্যে নদী দখলের মানসিকতা রয়েছে। কারখানার সব ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলা হয়। শুধু নদী নয়, বর্জ্য ও দখলের কারণে ঢাকার ৫৬ খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। সরকার এসব খাল উদ্বার করতে চায়। এজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভালো কাজের জন্য রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা সরকারের রয়েছে। মালিকদের স্বদিচ্ছার অভাবের কারণেই সাভারে চামড়া শিল্প নগরীর স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেরি হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশনা ও সরকারের প্রচেষ্টায় হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে।

পরিবেশ ও মানবিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মালিকদের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন নৌমন্ত্রী। এছাড়া 'ট্যানারি শিল্পের সমস্যা ও করণীয়' বিষয়ে একটি সুপারিশমালা তৈরি ও তা সরকারকে প্রদানের জন্য পরিবেশবাদীদের উদ্যোগে একটি 'ওয়ার্কিং গ্রুপ' গঠন ও এই গ্রুপের মাধ্যমে তদারকিরও প্রস্তাব করেন।

নদী দূষণ ও উচ্ছেদ রোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শাজাহান খান বলেন, আগে নদীর পাড় উদ্ধার করতে গেলে নানামুখী বাধার সম্মুখীন হতে হতো। এখন বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আর ম্যাজিস্ট্রেটরা বাধার মুখে পড়েন না।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, 'চামড়া শিল্প দেশের সম্পদ। কিন্তু নদী আমাদের বড় সম্পদ, নদী জীবনের সঙ্গে জড়িত। সুতরাং যাতে ট্যানারি শিল্প টিকে থাকে এবং নদীও রক্ষা পায়, এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে একটি সমন্বিত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।'

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, ট্যানারি শিল্প নগরী সাভার-এর প্রাক্তন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রাক্তন সার্বক্ষণিক সদস্য আলাউদ্দিন, অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির, বাপা'র সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) অস্ট্রেলিয়া শাখার সমন্বয়ক কামরুল আহসান খান, বাপা'র যুগ্মসম্পাদক মিহির বিশ্বাস।

গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন বাপা'র যুগ্মসম্পাদক শরীফ জামিল।