পুলিশের ওপর হামলা: রাজধানীতে নারী 'জঙ্গি' রিমান্ডে

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আটক সন্দেহভাজন নারী জঙ্গির বিষয়ে রাজধানীর কাজীপাড়ায় তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তা। সোমবার ওই ঘটনায় গ্রেফতার হামলাকারী আসমাউল হুসনা ওরফে সুমনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সুমনা মেলবোর্নে আটক মোমেনা সোমার ছোট বোন।

সন্ত্রাস দমন আইনে কাফরুল থানার মামলায় সুমনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'সুমনা ছুরি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। সে নব্য জেএমবির সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলার কারণ ও তার প্রবাসী বোন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি-না জিজ্ঞাসাবাদের পর তা জানা যাবে।'

তিনি আরও জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর মেলবোর্নে ঘুমন্ত একজনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মোমেনা সোমাকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। তাদের ভাষ্য, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সোমা ওই ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা চালায়। এর সূত্র ধরে সিটিটিসির একটি দল সোমবার সোমার ঢাকার বাসায় যায়।

সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানান, পূর্ব কাজীপাড়ার বাসায় সোমার বাবা ও বোনের সঙ্গে কথা বলছিলেন তারা। একপর্যায়ে হিজাবের নিচে লুকিয়ে রাখা ছুরি বের করে সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার ওপর হামলা করে সুমনা। ওই কর্মকর্তার শরীরে ছুরির আঁচড় লাগলেও আঘাত গুরুতর নয়। তাৎক্ষণিকভাবে নারী পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ছুরি, একটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমনা নিজেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। অনলাইনে জঙ্গিদের বিভিন্ন ভিডিও দেখে ও ফেসবুক পেজের লেখা পড়ে সে তথাকথিত জিহাদে উদ্বুদ্ধ হয়।

এ ছাড়া 'সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী' ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের পরিকল্পনাও তার ছিল বলে জানান সিটিটিসি কর্মকর্তারা।