ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ৭১ আরোহী নিয়ে যাত্রা করা উড়োজাহাজটির এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

ত্রিভূবন বিমান বন্দরটি এর আগেও আরও বহু দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বলে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পাহাড় ঘেরা এই বিমানবন্দরটি কাঠমান্ডু উপত্যকায় এবং শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে। একের পর এক বিমান দুর্ঘটনার কারণে এই বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রায়শই আলোচনা হয়।

বিবিসি বলছে, বিমানবন্দরটিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো উড়োজাহাজ অবতরণের পর থেকে এপর্যন্ত ৭০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বলা হচ্ছে, এসব দুর্ঘটনায় ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। উড়োজাহাজের পাশাপাশি সেখানে হেলিকপ্টারও বিধ্বস্ত হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশীশি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর নেপালে উড়োজাহাজ চলাচলে নিরাপত্তার দুর্বলতার বিষয়টি আবারও চোখে সামনে এলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নেপালে উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে তাদের সমালোচনা হয়েছে।

উইকিপিডিয়া বলছে, নিয়মিত উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কিছু দিন পরই একটি দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৭২ সালের মে মাসে। থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান অবতরণ করার সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। তাতে ১০০ জনের মতো যাত্রী ও ১০ জন ক্রু ছিলেন। তাদের একজন নিহত হয়েছেন।

১৯৯২ সালে থাই এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস অবতরণ করার জন্যে বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১১৩ জন যাত্রীর সকলেই নিহত হযন। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হয় আরো একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা। পিআইএর বিমানটি বিধ্বস্ত হলে বিমানের ভেতরে থাকা ১৬৭ জনের সবাই প্রাণ হারান।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে রয়্যাল নেপাল এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ বেষ্টনী ভেঙে মাঠের ভেতরে ঢুকে যায়। তাতে দুইজন নিহত হন এ বন্দরে।

লুফথানসার একটি উড়োজাহাজ বিমানবন্দর থেকে উড়ান শুরু করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। তাতে পাঁচজন ক্রু সদস্য নিহত হন। এটি ঘটেছিলো ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে।

একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নেকন এয়ারের একটি উড়োজাহাজ ত্রিভূবন বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একটি টাওয়ারের সাথে সংঘর্ষে কাঠমান্ডু থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি অরণ্যে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১০ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রুর সবাই নিহত হন।

২০১১ সালে বুদ্ধ এয়ারের একটি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় ১৯ জন আরোহীর মধ্যে একজন শুরুতে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হলেও পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মারা যান। বলা হয় খারাপ আবহাওয়া ও নিচুতে থাকা মেঘের কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিলো।

২০১২ সালে সিতা এঙরের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পরপরই সম্ভবত একটি শকুনের সাথে ধাক্কা খাওয়ার পর বিধ্বস্ত হয়। এতে ১৯ জন আরোহীর সবাই মারা যান।

২০১৫ সালে তুর্কী এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ঘন কুয়াশার মধ্যে নামতে গিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়ে। ৩০ মিনিট ধরে এটি বিমানবন্দরের ওপর উড়তে থাকে। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় নামতে পারলেও সেটি রানওয়ের থেকে ছিটকে মাঠের ঘাসের ওপর চলে যায়। ২২৭ জন যাত্রীকে সেখান থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

২০১৭ সালের মে মাসে সামিট এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ আর সর্বশেষ দুর্ঘটনার শিকার হলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি।