কমনওয়েলথ গেমস ডায়েরি

ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম...

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

গোল্ড কোস্ট থেকে, মশিউর রহমান টিপু

'ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার। মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা, এপার ওপার। নানানরকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি। সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি। ছেলের আমার, আমার প্রতি অগাধ সল্ফ্ভ্রম। আমার ঠিকানা তাই, বৃদ্ধাশ্রম...।'

নচিকেতার অসাধারণ এই গানটা খুব মনে পড়ছিল সে সময়, যখন মন দিয়ে শুনছিলাম সিটি অব গোল্ড কোস্টের কয়েকটি বৃদ্ধাশ্রমের কথা। এই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি প্রবীণনিবাস, যাকে বলা হয় 'কেয়ার সেন্টার', রয়েছে যেখানে জীবন নদীর উপান্তে দাঁড়ানো কিছু মানুষের শেষদিনগুলো কাটে। তবে পরিবারের কাছ থেকে উপেক্ষা-অপমানের গ্লানি বুকে নিয়ে কেউ এখানে আসেন না। বুড়োকালে সন্তানরা না দেখলে বাংলাদেশে অনেকেই যেমন আতান্তরে পড়ে যান, এখানে ব্যাপারটা আদৌ তেমন নয়। বৃদ্ধদের নির্ভর করতে হয় না সন্তানের আয়-রোজগারের ওপর। উঠতে-বসতে প্রিয়জনের লাঞ্ছনা-গঞ্জনাও সইতে হয় না।

কমনওয়েলথ গেমস কাভার করতে এসে গোল্ড কোস্টের পথে-ঘাটে প্রচুর বয়স্ক মানুষকে দেখেছি হাসিমুখে কাজ করছেন ভলান্টিয়ার হিসেবে। তাদের অনেকেরই বয়স ৭০-ছাড়িয়ে গেছে। এই বয়সেও কিছু একটা করতে পেরে তারা কত যে খুশি তা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে। তাহলে এখানকার বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে যায় কারা, কোন বয়সে? জানা গেল- একেবারে যাদের আর চলাফেরার শক্তি নেই, দেখাশোনার লোকও থাকে না তারাই একসময় হয়ে যান নানা নামে চালু কেয়ার সেন্টারের বাসিন্দা। ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের সদস্যদের পক্ষে সম্ভব হয় না প্রবীণদের দেখভাল করার। বয়স ১৮ পেরোলেই আলাদা জীবনে পা রাখে তরুণরা। হয়তো তারপরও কিছুদিন মা-বাবার সঙ্গে থাকে। এক সময় নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ে নিতে হয় তাদের। অতিব্যস্ত সে জীবনে বয়স্ক মা-বাবার সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করাও সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর বাংলাদেশের সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধের পার্থক্যের ব্যাপারটা তো আছেই। প্রবীণরাও কারও ওপর নির্ভর করে বাঁচা পছন্দ করেন না। বুড়োবুড়ি এক বাড়িতে থাকেন। উইকএন্ডে ছেলেমেয়েরা আসে। কিছুক্ষণ থেকে আবার ফিরে যায়। নাতি-নাতনিদের সঙ্গেও একরকম ঘড়িবাঁধা সম্পর্ক। যখন স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কেউ একজন পৃথিবী ছেড়ে যান তখন বাধ্য হয়ে অন্যজনকে আশ্রয় নিতে হয় কেয়ার সেন্টারে। তবে এখানে তাদের একেবারেই 'আশ্রিত' বলে দেখা হয় না। সর্বোত্তম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এখানে তারা সিনিয়র সিটিজেনের রাষ্ট্রীয় অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে থাকেন। অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর অন্যতম কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। বয়স্কদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা বেশ সময়সাপেক্ষ। বাংলাদেশের বৃদ্ধনিবাসগুলোর সঙ্গে এ দেশের কেয়ার সেন্টারগুলোর তুলনা করতে যাওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গোল্ড কোস্টে কেয়ার সেন্টারে কাজ করেন এমন একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটামুটিভাবে যারা বাইরের জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাফেরা করতে অক্ষম, শারীরিক নানা সমস্যায় আক্রান্ত বা বাড়িতে নিজের কাজ নিজে করতে পারেন না এমন বৃদ্ধদের নিয়ে আসা হয় কেয়ার সেন্টারে। এখানে তাদের খাবার-দাবার, বিনোদন, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়। লাভজনক বা অলাভজনক-দু'রকমের ব্যবস্থাই আছে। খরচ জোগায় সরকার। গোল্ড কোস্টে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধাশ্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে ওপেল কেয়ার সেন্টার, এইজ কেয়ার সেন্টার, আর্চার কেয়ার সেন্টার ইত্যাদি। সরকার টাকা দেয়, কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করে। পরিবারের সদস্যরা নিয়ম করে 'মুরব্বি'দের দেখতে যান। কোনো ত্রুটি চোখে পড়লে যথাস্থানে অভিযোগ জানান। সমাধানও দ্রুত হয়ে যায়। তবে অভিযোগের সংখ্যা কমই।

প্রাতিষ্ঠানিক বিধিনিষেধ থাকায় নীতিগত কারণে কেয়ার সেন্টারে বসবাসকারী কারও নাম এখানে উল্লেখ করা হলো না। তবে একজন বাংলাদেশি বৃদ্ধার কথা জানি, যিনি ছেলের সঙ্গে থাকতেন। একদিন বাথরুমে পড়ে গিয়ে এমন ব্যথা পান যে নিজে থেকে চলাফেরা করা মুশকিল হয়ে যায়। সর্বক্ষণ দেখাশোনাই বা করবে কে? সমাধান মিলল কেয়ার সেন্টারে ভর্তি হওয়ার মধ্যে। এর চেয়ে ভালো কিছু আর করারও ছিল না বলে মনে করেন তিনি। সঙ্গত কারণে তার পরিচয়ও লেখা হলো না। কেয়ার সেন্টারের অভিজ্ঞতা শুনে আরও জানা গেল, অতিবৃদ্ধদের কেউ কেউ এমন এক জটিলতর সমস্যায় আক্রান্ত হন যখন তাদের নিয়ে কেয়ার সেন্টারের কর্মীদের গলদঘর্ম হতে হয়। সমস্যাটার নাম ডিমেনশিয়া বা কিছু মনে রাখতে না পারা। তখন তারা শিশুর মতো আচরণ করেন। আসলে প্রকৃতির নিয়মটাই এমন। শিশুরা ধীরে ধীরে বার্ধক্যের পথে এগিয়ে যায় আর বৃদ্ধরা শেষ খেয়া পাড়ি দেওয়ার আগে শিশু হতে শুরু করেন!

জানতে চেয়েছিলাম, অস্ট্রেলিয়ানদের গড় আয়ু কত? তার আগে জানাই, এখানে পুরুষদের চেয়ে নারীরা গড়ে চার বছর বেশি বেঁচে থাকেন। সর্বশেষ হিসাবে, অস্ট্রেলিয়ায় গড় আয়ু পুরুষদের ৮০ বছরের একটু বেশি, নারীর সাড়ে ৮৪ বছর। তাদের বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর ৬ শতাংশ শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে কাটান।

নচিকেতা দিয়ে শুরু করেছিলাম। আসলে বাঙালি সমাজের পরতে পরতে বহু করুণ কাহিনী লুকানো রয়েছে বৃদ্ধদের লাঞ্ছিত-নিপীড়িত জীবন নিয়ে। তাদের নীরব অশ্রুপাত সবসময় চোখেও পড়ে না। নচিকেতার গানের কথা সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেলেও বৃদ্ধদের প্রতি সহানুভূতিশীল সমাজ এখনও গড়ে ওঠেনি। অবশ্য সব পরিবারের চেহারাটা একরকম ভাবলেও বড় ভুল হবে। বাংলাদেশের অটুট পারিবারিক বন্ধনের যে ঐতিহ্য, সামাজিক যে মূল্যবোধ তার ছায়ায় অনেকেরই শেষ জীবনটা কাটে পরম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর সেবায়। তবে বৃদ্ধাশ্রমগুলোর অবস্থার কথা এখানে বোধকরি না তোলাই ভালো।

তামিম-লিটনের ভালো শুরু

তামিম-লিটনের ভালো শুরু

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেটে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে ...

২০২০ এশিয়া কাপ পাকিস্তানে!

২০২০ এশিয়া কাপ পাকিস্তানে!

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সংগঠনের প্রথম ...

রক্ত পরিশোধিত করে লাল শাক

রক্ত পরিশোধিত করে লাল শাক

বেশিরভাগ সবুজ শাকে প্রচুর পুষ্টি গুণ রয়েছে। তবে লাল শাকেরও ...

অভিনেতা যখন মেথর!

অভিনেতা যখন মেথর!

টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। বহুমাত্রিক চরিত্র রোমান্টিক, কখনো ...

এখন দলাদলির সময় নয়, আসুন এক হই: ফখরুল

এখন দলাদলির সময় নয়, আসুন এক হই: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতা-কর্মীদেরকে ভেদাভেদ ভুলে ...

আন্তর্জাতিক দুই উৎসবে তৌকীরের ‘হালদা’ ও ‘অজ্ঞাতনামা’

আন্তর্জাতিক দুই উৎসবে তৌকীরের ‘হালদা’ ও ‘অজ্ঞাতনামা’

জনপ্রিয় অভিনেতা তৌকীর আহেমদ। নির্মাতা হিসেবেও সমান জনপ্রিয়তা তার। নির্মাণে ...

হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে খেতে পারেন মটরশুটি

হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে খেতে পারেন মটরশুটি

শীতকাল মানেই নানা সবজির সমাহার। বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিমের পাশাপাশি এখন ...

টি-২০ সিরিজের দল ঘোষণা

টি-২০ সিরিজের দল ঘোষণা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেটে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে মাঠে ...