ভারতে গিয়ে 'বোমা মিজানকে' জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন গোয়েন্দারা

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

'বোমা মিজান'- ফাইল ছবি

ভারতে গ্রেফতার জেএমবি নেতা জাহিদুল ইসলাম মিজান ওরফে বোমা মিজানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আরও সময় দরকার হবে; তবে এর মধ্যে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ভারতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার একথা জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে জেএমবির যে তিন শীর্ষ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, বোমা মিজান তাদেরই একজন।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হাতে গ্রেফতার হয় বাংলাদেশে যাবজ্জীবন সাজার আসামি মিজান (৩৮)। বিহারের বুদ্ধ গয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের মামলায় তাকে  খুঁজছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।

আনন্দবাজার বলছে, বোমা মিজানকে ফিরিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ নিয়ে আবেদন জানিয়েছে দেশটির সরকার। সেই আবেদনের কথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পৌঁছেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র কাছেও।

তবে এখনই বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে চাইছে না এনআইএ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টা ছাড়াও তারা চাইছে, এ দেশের বিচারপর্ব আগে শেষ হোক।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তবে নিতান্তই প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা ভারতে বোমা মিজানকে জেরা করার অনুমতি পাবেন।

ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ীই জেএমবি-র জঙ্গি মিজানকে পেতে চায় বাংলাদেশ সরকার। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারিভাবে শুরু হতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যাবে বলেও জানা গেছে।

গত ৬ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার হওয়ার পরে পাটনায় এনআইএ হেফাজতে রয়েছে মিজান। বাংলাদেশে ১৮টি বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় অভিযুক্ত সে। তার নামে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসও জারি করা হয়।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, মিজানকে জেরা করে জেএমবির নতুন নেটওয়ার্কের খোঁজ পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

২০০৯ সালের ১৪ মে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা থেকে বোমা মিজানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ত্রিশালের ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার পর মিজানকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ।