আসামে নাগরিকত্ব নিবন্ধন

ঢাকাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০১৮     আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

রাশেদ মেহেদী

ফাইল ছবি

ভারতের আসামে জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন বা এনআরসিতে বাংলাভাষী মুসলিমদের বাদ পড়ার বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও এ ব্যাপারে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কূটনৈতিক বিশ্নেষকরা। তাদের অভিমত, চলমান রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুর তিক্ত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখেই বাংলাদেশের এই ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়া দরকার। কারণ, আসামের পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বাংলাদেশের জন্য নতুন সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সংশ্নিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আসাম পরিস্থিতি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলুক, তা একেবারেই চায় না দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে বাংলাদেশের জন্য এখনই উদ্বেগের কারণ নেই।

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও জোর দিয়ে বলেছেন, আসামের এনআরসি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। ঢাকার একটি সূত্র জানায়, এ বিষয়ে বাংলাদেশকে উদ্বিগ্ন না হতে আশ্বস্ত করেছে ভারত সরকার। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ভারতকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ এ বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখছে।

এনআরসি উত্তাপ যে কারণে :ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামে জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন চলছে। কিন্তু প্রথম পর্যায়ের নিবন্ধন তালিকায় সেখানে বহু বছর ধরে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ বাংলাভাষী তালিকা থেকে বাদ পড়েন, যাদের বড় অংশই মুসলিম। এ নিয়েই শুরু হয় উত্তাপ। উত্তেজনার পারদ উচ্চগামী হয় যখন আসামের বিজেপি নেতারা বাংলাভাষী মুসলিমদের বের করে দেওয়ার  ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার বিপরীতে নাগরিকত্ব নিবন্ধনের জন্য মাঠে নামেন বাংলাভাষীরা। তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির কঠোর সমালোচনা করে বাংলাভাষীদের পক্ষে থাকার ঘোষণা দেন। ফলে আসামের উত্তপ্ত হাওয়া কোলকাতার রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। বিষয়টি দিল্লির কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যখন কংগ্রেস এবং সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় নেতারাও আসামে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে 'বিভেদ সৃষ্টির' প্রচেষ্টার কঠোর নিন্দা জানান।

বাংলাদেশেও উত্তাপ ছড়ায় এনআরসি ইস্যু। মিয়ানমার সেনাদের গণহত্যা ও নিষ্ঠুরতার মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশকে এখনও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিশ্নেষকদের অভিমত :সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতি বিশ্নেষক হুমায়ুন কবীর সমকালকে বলেন, আসামের ইস্যুটা ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয়, সন্দেহ নেই। কিন্তু দু-একটি বিষয় মনে রাখতেই হবে। ভারতে অনেক ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাস্তবায়ন করে। যেমন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি স্ব স্ব রাজ্য সরকারই দেখে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার নেতিবাচক কিছু না চাইলেও রাজ্য সরকার নেতিবাচক কিছু করে ফেলতে পারে। এমন আশঙ্কা কিছুটা হলেও থেকেই যায়। এ কারণে বাংলাদেশকে বিষয়টিতে মনোযোগ দিতে হবে। আবার রোহিঙ্গা সংকটের তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যেই আমরা আছি। ফলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এই অভিজ্ঞতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। এ কারণে বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, দু'দেশের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে- সে বিষয়টিতেও ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখা ভালো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। দুই দেশই এ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতেও সব সময়ই তৎপর। এ অবস্থায় আসামের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এ ছাড়া নির্বাচন সামনে এলে ভারতে এনআরসির মতো অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক ইস্যুকে চাঙ্গা করে ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পেতে চায় কোনো কোনো পক্ষ। এটাও পুরনো রীতি। নির্বাচন শেষ হলে দেখা যায়, এ ধরনের ইস্যু হারিয়ে যায়। ফলে এ বিবেচনাতেও উদ্বেগের কিছু নেই। তা সত্ত্বেও এ পরিস্থিতির দিকে বাংলদেশের সার্বক্ষণিক সতর্ক নজর রাখতে হবে, যাতে তা এদেশের জন্য মাথাব্যথার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না :কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আসামের পরিস্থিতি নিয়ে ভারত বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে যে, এতে ঢাকার উদ্বেগের কিছু নেই। ভারত যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। এ বিষয়টিও বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না।

গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন চলছে এবং কেবল প্রথম পর্যায় পার হয়েছে। এরপর আরও ধাপ রয়েছে। ফলে প্রক্রিয়াটি চলমান এবং এ নিয়ে এখনই সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক খুবই চমৎকার এবং এ ইস্যুতে ঢাকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ারও নূ্যনতম আশঙ্কা নেই।

এর আগে ৩০ জুলাই ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, আসামে এনআরসি এবং পরবর্তী অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ নেই।

আরও পড়ুন

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

সারাদেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঢাকা-১ আসন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ঢাকা ...

সরব এশিয়া-ইউরোপ

সরব এশিয়া-ইউরোপ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার ...

তারাই আমাদের বাতিঘর

তারাই আমাদের বাতিঘর

আবার এসেছে ফিরে ডিসেম্বর। শোক, শক্তি ও সাহসের মাস, আমাদের ...

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

'আজ এই ঘোর রক্ত গোধূলিতে দাঁড়িয়ে/ আমি অভিশাপ দিচ্ছি তাদের/ ...

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

পরিসংখ্যান অনেক সময় নির্মম, যেমন পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুদের, ...

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

গত ৬ অক্টোবর ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য ...

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

২০১৪ সালে যেমন কোনো বিকল্প ছিল না, এই ২০১৮-তেও তেমনি ...

তোমার আমার মার্কা...

তোমার আমার মার্কা...

বিষণ্ণ মনে সোফায় বসে পেপার পড়ছিলেন বাবা। ক্লাস নাইনে পড়া ...