অক্সফামের প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা নারীদের জন্য আরও ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার প্রয়োজন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নারীরাই সবচেয়ে বেশি মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছে আর্ন্তজাতিক সংস্থা অক্সফাম। তাদের জরুরি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ সেবার প্রয়োজনে আরও ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 

মঙ্গলবার রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে রোহিঙ্গা নারীদের এক বছরের চিত্র তুলে ধরে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব তথ্য জানান অক্সফাম কর্মকর্তারা। 

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। আরও বক্তব্য দেন অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. দীপঙ্কর দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম, বাংলাদেশে জাতিসংঘের নারী কর্মসূচি বিষয়ক প্রতিনিধি সোকো ইশিকাওয়া, ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্র্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিব্লেট এবং অক্সফামের জেন্ডার জাস্টিস কর্মসূচির ম্যানেজার নাজমুন নাহার। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন রোহিঙ্গা বিষয়ক হিউম্যানিটারিয়ান পলিসি ম্যানেজার ডরথি স্যাং। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫০ শতাংশই নারী। এই নারীরা বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির বড় চ্যালেঞ্জে রয়েছেন। এছাড়া ক্যাম্পে কিশোরীরা তালাবিহীন ও দুর্বল দরজার ঘরের ভেতরে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন। অনেক হয়রানির মধ্যে তাদের বাঁচতে হচ্ছে; যা তারা প্রকাশও করতে পারেন না। এ ছাড়া এই কিশোরীরা পিরিয়ডের সময় স্বাস্থ্য সচেতনতার শিক্ষাও পাননি। তাদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিনের সরবরাহ নেই। ফলে তারা স্বাস্থ্যগত বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে অনেক মা আছেন যাদের স্বামীরা হয় নিখোঁজ রয়েছেন কিংবা হত্যার শিকার হয়েছেন। এই মায়েদের সন্তানদের খাওয়াপড়ার জন্য খাদ্যের অপ্রতুলতা যেমন রয়েছে তেমনি প্রতিকূল সাংস্কৃতিক পরিবেশে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও তারা দুশ্চিন্তার মধ্যে বসবাস করছেন। 

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী ও শিশুদের বিশেষ প্রয়োজনের বিষয়টি চিহ্নিত করে বেশকিছু বিশেষায়িত ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে ৩৪ হাজার ২২৮ জন গর্ভবতী রোহিঙ্গা নারীকে শনাক্ত করে তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া ৩ হাজার ৫৫৪ জন নবজাতক ও তাদের মা বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা পেয়েছেন। এছাড়া ক্যাম্পগুলোতে ৮ হাজার ১৭০টি নলকূপ, ৫০ হাজার ৫০৮টি স্যানিটারি ল্যাট্রিন এবং ১১ হাজার ১৯০টি গোসলখানা নির্মাণ করা হয়েছে। নারী ও কিশোরীদের জন্য পৃথক টয়লেট ও গোসলখানা নির্মাণ করা হয়েছে।' 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া নারীদের অনেকেই মিয়ানমারে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কারণে তারা মানসিকভবে বিপর্যন্ত। এ চিত্র জাতিসংঘের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। 

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। 

অক্সফামের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. দীপঙ্কর বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের জরুরি সেবার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা যতদিন কক্সবাজারে থাকবে অক্সফাম এই সেবা দিয়ে যাবে। বিপন্ন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন। 

আরও পড়ুন

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

সারাদেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঢাকা-১ আসন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ঢাকা ...

সরব এশিয়া-ইউরোপ

সরব এশিয়া-ইউরোপ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার ...

তারাই আমাদের বাতিঘর

তারাই আমাদের বাতিঘর

আবার এসেছে ফিরে ডিসেম্বর। শোক, শক্তি ও সাহসের মাস, আমাদের ...

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

'আজ এই ঘোর রক্ত গোধূলিতে দাঁড়িয়ে/ আমি অভিশাপ দিচ্ছি তাদের/ ...

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

পরিসংখ্যান অনেক সময় নির্মম, যেমন পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুদের, ...

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

গত ৬ অক্টোবর ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য ...

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

২০১৪ সালে যেমন কোনো বিকল্প ছিল না, এই ২০১৮-তেও তেমনি ...

তোমার আমার মার্কা...

তোমার আমার মার্কা...

বিষণ্ণ মনে সোফায় বসে পেপার পড়ছিলেন বাবা। ক্লাস নাইনে পড়া ...