নৌমন্ত্রীর ব্যাংক আমানত বেড়েছে পাঁচগুণ

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

পাঁচ বছর আগে ব্যবসায় কোনো আয় না থাকলেও এখন তিনি প্রতিবছর ব্যবসা থেকে আয় করছেন তিন কোটি টাকার ওপরে। এ ছাড়া তার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা এবং সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী বিনিয়োগ বেড়েছে পাঁচ গুণেরও বেশি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলফনামায় এমন তথ্য দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের ছয়বারের সংসদ সদস্য শাজাহান খান।

তিনি একাধারে মন্ত্রী, আলোচিত শ্রমিক নেতা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। তবে গেল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দেওয়া হলফনামায় বার্ষিক আয়ের উৎস খাতে ব্যবসায়ী থাকলেও বছরে কোনো আয় আসেনি। কিন্তু এ বছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের হলফনামায় তারই দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতিবছরে ব্যবসা থেকে আয় করেছেন তিন কোটি তিন লাখ ৬২ হাজার ২৫০ টাকা। এ হিসাবে গেল পাঁচ বছরে নৌমন্ত্রীর ব্যবসা থেকে ১৫ কোটি টাকার ওপরে আয় এসেছে।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে শাজাহান খানের জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, তার পেশা ছিল রাজনীতি ও সাধারণ ব্যবসা। সেবার তার স্ত্রী সৈয়দা রোকেয়া বেগমের চাকরি ও ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার মন্ত্রী ও সাংসদ হিসেবে ভাতা এবং পারিতোষিক হিসেবে বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ২২ হাজার ৩০০ টাকা। এবারের নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে শাজাহান খান বাড়ি ও অন্যান্য ভাড়া থেকে বার্ষিক দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪২৯ টাকা; শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের লাভ বাবদ দুই লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা এবং মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ টাকা আয় এসেছে। শাজাহান খান ও তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে আড়াই গুণেরও বেশি।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে শাজাহান খানের হাতে কোনো নগদ টাকা ছিল না। ব্যাংকে তার জমা ছিল ১৮ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর কোনো টাকা ছিল না। বর্তমানে তার ব্যাংকে জমার পরিমাণ এক কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৩১১ টাকা। তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা আছে ২০ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৬ টাকা।

সূত্রমতে, পাঁচ বছর আগে শাজাহান খানের ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ছিল। বর্তমানে দেড় কোটি টাকা মূল্যের দুটি জিপ ও একটি মাইক্রোবাস রয়েছে তার। তার আগেও ৮০ তোলা স্বর্ণ ছিল, বর্তমানেও তাই আছে। টিভি, ফ্রিজ, ওভেন, ফ্যান, আয়রন, ওয়াশিং মেশিন বাবদ এক লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে, যা ২০১৪ সালের আগে ছিল দুই লাখ টাকা। মন্ত্রী বর্তমানে এক লাখ টাকার আসবাব ব্যবহার করেন, যা আগেরবার ছিল দুই লাখ টাকা। তার বর্তমানে তিন লাখ দুই হাজার টাকা মূল্যের একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল রয়েছে, যা আগেরবার মূল্য ছিল আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা।

শাজাহান খানের স্থায়ী সম্পদের মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর শহরের কলেজগেট এলাকায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন এবং রাজৈরে ৬৩ লাখ ১০ হাজার টাকার নির্মাণাধীন ভবন। তার নিজের নামে বর্তমানে সম্পত্তি রয়েছে ৮৯ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৩ টাকা পরিমাণের জমি এবং তার স্ত্রীর নামে দুই কোটি ৫৯ লাখ ১৬ হাজার ১৫৯ টাকা পরিমাণের জমি, যা ২০১৪ সালের আগে ছিল নিজের নামে ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৩ টাকা পরিমাণের জমি এবং তার স্ত্রীর নামে ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিমাণের জমি। বর্তমানে মন্ত্রী ও তার পরিবারের কোনো দেনা নেই।

এ ব্যাপারে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সমকালকে বলেন, আমার পারিবারিকভাবে অনেক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ছেলে ও অন্য ভাইদের নামে পরিবহন, তেলের পাম্প ও লঞ্চের ব্যবসা রয়েছে। এসব থেকে আমি বৈধভাবেই আয় করি। যা এবার হলফনামায় সংযুক্ত করেছি।