এত মনোনয়ন বাতিল কেন

তুচ্ছ কারণে কারও মনোনয়ন যেন বাতিল না থাকে

বিশিষ্টজনের অভিমত

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

তুচ্ছ কারণে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজন। সমকালের সঙ্গে আলাপে তারা বলেছেন, এত তুচ্ছ কারণে মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা এর আগের কোনো নির্বাচনেই দেখা যায়নি। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেই নিজেকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করেছে। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, তুচ্ছ কারণে কারও মনোনয়ন যেন বাতিল না থাকে। তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ সমকালকে বলেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী যাদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা, তাদেরটা রিটার্নিং অফিসার বাতিল করবেন, এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। রিটার্নিং অফিসার মনোনয়ন বাতিল করলেও এর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে। ফলে এখনই এ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় এবার ৭৮৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সরকার বিরোধী জোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট জমা পড়া মনোনয়নের প্রায় ২৬ শতাংশ এবার বাতিল করা হয়। এর আগের নির্বাচনগুলোতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশের বেশি মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের ম্যানুয়ালেই বলা আছে, ছোটখাটো ভুল-ত্রুটির জন্য মনোনয়ন বাতিল না করা; কিন্তু দেখা গেছে, সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার ক্রেডিট কার্ডের বিল বাকি থাকার জন্যও একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, সুস্থ বিবেচনায় এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আবার দলের মহাসচিবের স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহের কথা তুলে ঢালাওভাবে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, এটাও প্রশ্নের সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারবিরোধী জোটের মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রেই ছোটখাটো বিষয়গুলো আমলে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সরকারি দলের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেদের আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ নিজেরাই তৈরি করে দিল। সুজন সম্পাদক বলেন, ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ঋণখেলাপি হিসেবে বহুল পরিচিত রাঘব-বোয়ালের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শুধু ছোট ঋণখেলাপিদের ওপরই খÿ চালানো হয়েছে, আর বড় খেলাপিদের ছাড় দেওয়া হয়েছে? নির্বাচন কমিশনের এখন উচিত এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক নিরসন করা।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞ শারমিন মুর্শিদ বলেন, এবারের নির্বাচনে যেভাবে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। প্রায় ১৮ বছর ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছি, এ বছরের মতো এত তুচ্ছ কারণে মনোনয়ন বাতিল করার চিত্র আগে আর কোনো নির্বাচনেই দেখিনি। তুচ্ছ কারণ শুধু নয়, মনোনয়ন বাতিলে এক ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে বলেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতেই নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের আস্থার জায়গা পুরোপুরি তৈরি করতে পারেনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নেই আস্থাহীনতার বিষয়টিকেই আরও প্রকট করছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই এ ব্যাপারে কৈফিয়ত দেওয়া উচিত। জাতিকে জানানো উচিত।

আরও পড়ুন

'অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ' গড়বে আওয়ামী লীগ

'অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ' গড়বে আওয়ামী লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই প্রধান জোটেই চলছে ...

ক্ষমতার ভারসাম্য চায় ঐক্যফ্রন্ট

ক্ষমতার ভারসাম্য চায় ঐক্যফ্রন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই প্রধান জোটেই চলছে ...

যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরাও ভোটের লড়াইয়ে

যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরাও ভোটের লড়াইয়ে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি, যুদ্ধাপরাধে ...

সর্বাত্মক সঙ্গী সোভিয়েত ইউনিয়ন

সর্বাত্মক সঙ্গী সোভিয়েত ইউনিয়ন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারত প্রত্যক্ষভাবে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করলেও ...

৩৬৫ দিনই পাশে

৩৬৫ দিনই পাশে

চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে জাতীয় ...

নির্বাচনের খরচে চোখ রাখছে দুদক

নির্বাচনের খরচে চোখ রাখছে দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চোখ এখন নির্বাচনী মাঠে। প্রচারণায় অস্বাভাবিক ...

বিএনপি কর্মীদের পিটুনিতে আ.লীগ নেতার মৃত্যু

বিএনপি কর্মীদের পিটুনিতে আ.লীগ নেতার মৃত্যু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রচারের দ্বিতীয় দিনে ফরিদপুর-৩ (সদর) ...

জনগণ স্বাধীনতার চেতনার পক্ষে ভোট দেবে: তোফায়েল

জনগণ স্বাধীনতার চেতনার পক্ষে ভোট দেবে: তোফায়েল

জনগণ স্বাধীনতার চেতনার পক্ষে ভোট দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ...