জীববিজ্ঞান চর্চার প্রচার-প্রসারে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের (বিডিবিও) সঙ্গে যুক্ত হলো সমকাল। দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে আগামী বছর থেকে আয়োজন করবে বিডিবিও-সমকাল জীববিজ্ঞান উৎসব। অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়ার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো শুক্রবার। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ মিলনায়তনে নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। বিডিবিওর সভাপতি অধ্যাপক শহীদুর রশীদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. দীপক কুমার নাগ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিডিবিওর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া বক্তৃতা করেন ড. রাখহরী সরকার, ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী, মুসা মৃধা প্রমুখ।

নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধন করে মুস্তাফিজ শফি বলেন, তরুণরা যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা এনেছিল, এই তরুণরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নেতৃত্ব দেবে। জীববিজ্ঞান উৎসবও তাদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, গত বছর আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ জিতেছিল। আশা করি, আগামী দু-এক বছরের মধ্যে স্বর্ণপদক জিতবে। আমাদের তরুণদের সেই মেধা ও যোগ্যতা রয়েছে। তাদের সঠিক মূল্যায়ন করতে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করতে হবে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমকাল বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে জানিয়ে মুস্তাফিজ শফি বলেন, সমকাল বিশ্বাস করে পত্রিকার কাজ শুধু সংবাদ প্রকাশ করা নয়। সামাজিক নানা কাজে সম্পৃক্ত হয়ে পাঠকদের পাশে থাকাও দায়িত্ব। সেই বিশ্বাস থেকে এ উৎসবের সঙ্গে সমকাল যুক্ত হয়েছে। পাঁচ বছরের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সমকাল সবসময় বিডিবিও এবং এ উৎসবের সঙ্গে থাকবে।

শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, বিজ্ঞানকে ভালোবেসে প্রতিমুহূর্ত তা নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে- এ বোধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চারিত করতেই এই আয়োজন। আর্থিক সংকট সত্ত্বেও বিডিবিও কাজ করে চলেছে। সমকালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। তিনি বলেন, এ এক নবসূচনা।

দীপক কুমার নাগ বলেন, আমাদের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটি থামাতে হবে। যার জন্য জীববিজ্ঞানের মতো অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তিসহ পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৯ সালের ১ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে উৎসবের আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ২২ মার্চ জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হবে। সেখান থেকে বিজয়ীদের নিয়ে ২৮ থেকে ৩১ মার্চ জাতীয় বায়োক্যাম্প করা হবে। বিজয়ীরা ১৪ থেকে ২১ জুলাই হাঙ্গেরিতে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেবেন।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিডিবিওর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিক রহমান জানান, শনিবার থেকে জীববিজ্ঞান উৎসবে যোগ দেওয়ার নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হলো। বিডিবিওর ওয়েবসাইট www.bdbo.org এবং উৎসবের ওয়েবসাইট registration.bdbo.net-এ গিয়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যে কোনো শিক্ষার্থী নিবন্ধন করতে পারবেন। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি- জুনিয়র, নবম ও দশম শ্রেণি- সেকেন্ডারি এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি- হায়ার সেকেন্ডারি, এ তিন ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধন ফি ২০০ টাকা। এ বিষয়ে আরও জানার থাকলে যোগাযোগ করা যাবে ০১৯৩০৪৪১৩০০ নম্বরে।

বিডিবিওর নতুন কমিটি ঘোষণা : অনুষ্ঠানে বিডিবিওর ২০১৯-২০ মেয়াদে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন ডা. মানস কুমার বসু। সভাপতি অধ্যাপক শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী ও কোষাধ্যক্ষ মুসা মৃধা নিজ নিজ পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলী সদস্য হিসেবে থাকছেন ডা. গাজী জাকির হোসেন, ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, ডা. মনিরুল ইসলাম. ড. আ খ ম গোলাম সারওয়ার ও ডা. নিত্য রঞ্জন পাল।

অলিম্পিয়াড কোচ নির্বাচিত হয়েছেন ড. রাখহরী সরকার এবং সহকারী কোচ হয়েছেন সামিউল আলম রাজিব ও আসিফ আহমেদ সামি। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন অনিরুদ্ধ প্রামাণিক, তারিক রহমান ও আবদুল্লাহ আল কাইয়ুম অর্পণ। আরও যারা নির্বাচিত হয়েছেন- অলিম্পিয়াড সমন্বয়কারী মোর্শেদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম মশিউর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনুপ হালদার, একাডেমিক সমন্বয়কারী সাবরিনা সামাদ শৈলী এবং সহ-একাডেমিক সমন্বয়কারী সাইফ বন্ধন।