ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবি: হাবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের তালা

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০১৯      

দিনাজপুর প্রতিনিধি

ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর কথা দিয়েও তা রাখা হয়নি। প্রশাসন ও আন্দোলনরত শিক্ষকরা নিজ নিজ অবস্থানে অটল রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পড়েছেন সেশনজটে, ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। এক প্রকার বাধ্য হয়েই বিক্ষোভে নেমেছেন তারা।

সোমবার দুপুরে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবিতে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রশাসনিক ভবন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে তালা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বসে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, ক্লাস-পরীক্ষা চালু করা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক, ট্রান্সপোর্টসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করা হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় আড়াই মাস ধরে শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন করছেন। এতে করে তারা সেশনজটের মধ্যে পড়েছেন। কবে নাগাদ সংকটের সমাধান হবে, সেটাও অনিশ্চিত। এরই মধ্যে গত রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর আশ্বাস দিলেও প্রশাসন তা করতে পারেনি। প্রশাসনের সেই আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা এতদিন চুপ করে ছিলেন। তবে কথা দিয়েও কথা না রাখায় এবার আর থেমে থাকার সময় নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

একই দাবিতে গতকাল রোববার দুপুরেও প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়। তবে পরে এ ইস্যুতে আলোচনা হবে এমন শর্তে তালা খুলে দেওয়া হয়। এদিন রাতেও উপাচার্যের বাসভবনে শিক্ষকসহ উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয় সোমবার সকালের মধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হবে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেও সংকট নিরসন করতে পারেনি প্রশাসন। তাই উপচার্যের বাসভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে তালা দিয়ে সেখানেই অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। 

এদিকে সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে দু'দফায় আলোচনা করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছেন, সংকট সমাধানে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর থেকে বেতনবৈষম্য দূরীকরণ, সহকারী অধ্যাপকদের লাঞ্ছিত ও নারী শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানির বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টার বহিষ্কার ও দুই সহকারী অধ্যাপকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও। এতে করে আড়াই মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনে থাকায় হাবিপ্রবির অধিকাংশ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা, অনেকেই পড়েছেন সেশনজটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট লেভেল-৪ সেমিস্টার-২-এর শিক্ষার্থী সাজিদ চৌধুরী জানান, আড়াই মাস ধরে আন্দোলন, কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। বারবার কথা দিয়েও ক্লাস-পরীক্ষা চালু হচ্ছে না। তাই প্রশাসনিক ভবনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ, ট্রান্সপোর্ট বন্ধ ও দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।

একই অনুষদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-১-এর শিক্ষার্থী অরুণা চৌধুরী জানান, এভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। ক্লাস-পরীক্ষা চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম জানান, নভেম্বরের পরে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। প্রশাসন সমস্যা সমাধান না করলে এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাশেম জানান, কমিটি করা হচ্ছে। ক্লাস-পরীক্ষ চালুর জন্য একাডেমিক কাউন্সিলে ডিন ও চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোনো আন্দোলন হওয়া উচিত নয়।