সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবদক

একাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোনো প্রার্থী না থাকায় এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

এ প্রসঙ্গে আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৯ জনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশের জন্য কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের মধ্যে ৪৩ জনই আওয়ামী লীগের। অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টির চারজন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে একজন নির্বাচিত হয়েছে।

নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ৪৩ জন হলেন ঢাকা থেকে সুবর্ণা মুস্তাফা, শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা ও নাহিদ ইজহার খান; চট্টগ্রাম থেকে খাদিজাতুল আনোয়ার ও ওয়াশিকা আয়েশা খানম; কক্সবাজার থেকে কানিজ ফাতেমা আহমেদ, খাগড়াছড়ি থেকে বাসন্তী চাকমা, কুমিল্লা থেকে আঞ্জুম সুলতানা ও আরমা দত্ত; ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজীপুর থেকে শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও রুমানা আলী; বরগুনা থেকে সুলতানা নাদিরা, জামালপুর থেকে হোসনে আরা, নেত্রকোনা থেকে হাবিবা রহমান খান (শেফালী) ও জাকিয়া পারভীন খানম; পিরোজপুর থেকে শেখ এ্যানী রহমান, টাঙ্গাইল থেকে অপরাজিতা হক, সুনামগঞ্জ থেকে শামীমা আক্তার খানম, মুন্সিগঞ্জ থেকে ফজিলাতুন নেসা, নীলফামারী থেকে রাবেয়া আলীম, নরসিংদী থেকে তামান্না নুসরাত বুবলী, গোপালগঞ্জ থেকে নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহ থেকে মনিরা সুলতানা, ঝিনাইদহ থেকে খালেদা খানম, বরিশাল থেকে সৈয়দা রুবিনা মিরা, পটুয়াখালী থেকে কাজী কানিজ সুলতানা, খুলনা থেকে গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, টাঙ্গাইল থেকে খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, দিনাজপুর থেকে জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালী থেকে ফরিদা খানম (সাকী), ফরিদপুর থেকে রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়া থেকে সৈয়দা রাশেদা বেগম, মৌলভীবাজার থেকে সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহী থেকে আদিবা আনজুম মিতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, শরিয়তপুর থেকে পারভীন হক সিকদার, রাজবাড়ী থেকে খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, মাদারীপুর থেকে তাহমিনা বেগম, পাবনা থেকে নাদিয়া ইয়াসমিন জলি ও নাটোর থেকে রত্না আহমেদ।

জাতীয় পার্টির চারজনের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যাওয়া সালমা ইসলামও রয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির অপর তিন সদস্য হলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আকতার।

বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন নেসা খানকে মনোনয়ন দেয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনিও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে তাদের মাঝে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপির একটি আসন পাওয়ার সুযোগ থাকলেও সংসদ নির্বাচনে দলটির বিজয়ী সদস্যরা এখনও শপথ না নেওয়ায় তাদের সংরক্ষিত নারী আসনটি স্থগিত রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে সাংসদ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিতদের শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।