নারায়ণগঞ্জের ইউএনওকে ওএসডির ঘটনার তদন্ত দাবি সংসদে

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ইউএনও হোসনে আরা বেগমকে নিয়ে রোববার সমকালে প্রকাশিত খবর

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা বেগমকে ওএসডির (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ঘটনা বিভাগীয় তদন্তের দাবি উঠেছে সংসদে।  

সোমবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের দুই সদস্য মেহের আফরোজ ও এ কে এম শামীম ওসমান ওই দাবি তোলেন। 

এ সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।

ওই দুই সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফজলে রাব্বী মিয়া।

সমকালসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে ইউএনও হোসনে আরা বেগম বীণাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ ওএসডির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। 

এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে বলেন, একজন নারী সন্তানসম্ভবা হলে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে তার সময় অতিবাহিত করতে হয়। ওই ইউএনও নয় বছর পর মা হতে যাচ্ছিলেন। নির্বাচনের সময় তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল না। স্বাভাবিকভাবে এপ্রিল মাসে তার সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা ছিল। তিনি ওএসডি হওয়ার খবর শুনে মানসিক চাপে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। সময়ের আগে সন্তানটি প্রসব করার কারণে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নয় বছর পর মা হতে যাওয়ায় তার মানসিক অবস্থা সবাই নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারছেন।

মেহের আফরোজ বলেন, ইউএনওর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে থাকেন তাহলে সন্তানসম্ভবা অবস্থায় কেন তাকে ওএসডি করা হলো- এটি স্পষ্ট নয়। একজন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত সমাজ এখনও সে বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেনি। সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ ঘটনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় তদন্ত করার দাবি জানান।

পরে সরকারি দলের আরেক সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, তিনি ওমরা হজে থাকার সময় এ ঘটনার কথা জানতে পারেন। এতে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত ও লজ্জিত। ওই কর্মকর্তা তার নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, অত্যন্ত সৎ ও কর্মঠ ওই সরকারি কর্মকর্তা। কার নির্দেশে তাকে ওএসডি করা হয়েছে- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে খারাপ কিছু হলে নিজেই তিনি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না।