প্রকৃত হিসাবে হজের ব্যয় বাড়েনি: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ -ফাইল ছবি

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ বলেছেন, অন্যান্য বছরের স্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনা করলে এ বছর প্রকৃত হিসাবে হজের ব্যয় বাড়েনি; বরং কমেছে। তবে সৌদি আরব সরকার সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি করায় হজের মোট ব্যয় বেড়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের হজযাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে হজের ব্যয় সম্পর্কে এসব কথা বলেন তিনি। গত সোমবার 'জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি-২০১৯' এবং 'হজ প্যাকেজ-২০১৯'-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বলেন, সৌদি সরকারের সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কর আরোপ এবং পরিবহন ব্যয় গত বছরের দ্বিগুণের বেশি করায় তা ১৫ হাজার ৩২৬ টাকা ৫০ পয়সা বেড়েছে। গত বছরের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের ওপর ১২ শতাংশ কর আরোপ করায় তিন হাজার ৭০৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া সৌদি সরকার কর আরোপ করায় আরও ২৫.২৫ টাকা বেড়েছে।

তিনি জানান, প্যাকেজ-১-এর হজযাত্রীদের জন্য এ বছর ট্রেনভাড়া শতভাগ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা পাঁচ হাজার ৯৪৫ টাকা ৫০ পয়সা বেড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত বছর ২০১৮ সালের প্যাকেজ-১-এর হজযাত্রীদের সর্বসাকল্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা। এ বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছিল এক লাখ ৪৮ হাজার ১৯১ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২০ হাজার টাকা বেশি। এর সঙ্গে এ বছর সৌদি সরকার বৃদ্ধি করেছে ২৪ হাজার ৯৮১ টাকা। সে হিসাবে এ বছর ২০১৯ সালের প্যাকেজ-১-এর হজযাত্রীদের জন্য সর্বমোট খরচ প্রস্তাব করা হয়েছিল চার লাখ ৪২ হাজার ৯১০ টাকা। কিন্তু এ বছর মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক প্যাকেজ-১-এর হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ১৮ হাজার ৫১৬ টাকা। প্রকৃত হিসাবে গত বছরের চেয়ে এ বছর ২৪ হাজার ৪১০ টাকা ব্যয় কমেছে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত বছর ২০১৮ সালের প্যাকেজ-২-এর হজযাত্রীদের সর্বসাকল্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন লাখ ৩১ হাজার ৩৬০ টাকা। এ বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছিল এক লাখ ৪৮ হাজার ১৯১ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২০ হাজার টাকা বেশি। এর সঙ্গে সৌদি সরকার কর বৃদ্ধি করেছে ১৯ হাজার ৩৫ টাকা। সে হিসাবে এ বছর ২০১৯ সালের প্যাকেজ-২-এর হজযাত্রীদের জন্য সর্বমোট খরচ প্রস্তাব করা হয়েছিল তিন লাখ ৭০ হাজার ৩৯৫ টাকা। কিন্তু এ বছর মন্ত্রিপরিষদ থেকে প্যাকেজ-২-এর হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৪৪ হাজার টাকা। প্রকৃত হিসাবে গত বছরের চেয়ে এ বছর ২৬ হাজার ৩৯৫ টাকা ব্যয় কমেছে।

বিষয় : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ হজ