রূপপুর প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুলকে প্রত্যাহার

প্রকাশ: ২২ মে ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক ও পাবনা অফিস

মাসুদুল আলম- ফাইল ছবি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন বুধবার সন্ধ্যায় জানান, মঙ্গলবার তাকে প্রত্যাহার করে গণপূর্ত অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হলে গত ১৯ মে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানও তার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ তদন্ত টিম পাঠানোর কথা বলেন। সেসব তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হলো।

জানতে চাইলে মাসুদুল আলম সমকালকে বলেন, 'আমরা সব আইন মেনে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করি। সেখানে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির কারণে নয়, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী তাকে প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর পাবনা সার্কেলের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার দেবাশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, সারাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি আবাসনে বালিশসহ নানা আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠানো নিয়ে যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, তার কারণেই হয়তো নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে, অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের বিল প্রদান বন্ধ রাখার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে হচ্ছে গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী। সেখানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা আটটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ২০ তলা ভবনে ১১০টি ও ১৬ তলা ভবনে ৮৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নয়টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এতে অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।