ট্রেনের অগ্রিম টিকিট নিয়ে দ্বিতীয় দিনেও দুর্ভোগ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবারও কাউন্টারগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন -সমকাল

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কিনতে গিয়ে দ্বিতীয় দিনেও গলদঘর্ম হয়েছেন যাত্রীরা। বৃহস্পতিবারও মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইনে কেনা যায়নি ঈদযাত্রার টিকিট। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রেলস্টেশনের কাউন্টারে লাইন ধরেছেন যাত্রীরা। তাই এদিনও কাউন্টারগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন। পোহাতে হয়েছে ভোগান্তি। 

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের কড়া হুঁশিয়ারির পরও অব্যবস্থাপনার চিত্র বদলায়নি, বরং বৃহস্পতিবার ঈদের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগও উঠেছে।

এদিন বেশ কয়েকটি স্টেশন ঘুরে কথা হয় যাত্রীদের সঙ্গে। বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন, কাউন্টারে এসি টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারির কাছে বেশি দামে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। হাসনাইন ইমতিয়াজ নামের একজন সাংবাদিক জানান, কাউন্টারে গিয়ে টিকিট পাননি। তবে একজন কালোবাজারি ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ঢাকা-পঞ্চগড়ের সিগ্ধা শ্রেণির তিনটি টিকিট দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

ফয়সাল নামের এক কালোবাজারি সমকালকে জানান, আগের মতো সার্ভার থেকে তারা টিকিট নিতে পারছেন না। লাইনে দাঁড়িয়ে এবং রেলের কর্মচারীদের কোটায় যে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, তা বিক্রি করছেন কয়েকগুণ দামে। যে কোনো তারিখের ট্রেনের টিকিট দিতে পারবেন বলে দাবি এই কালোবাজারির।

অথচ অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর আগে রেলমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, এবার কারও নামে সার্ভারে টিকিট ব্লক করা হবে না। মন্ত্রী, এমপি ও বিচারপতিরা নিজে ভ্রমণের টিকিট পেলেও তাদের সুপারিশে অন্য কেউ টিকিট পাবেন না বলেও জানান তিনি। বুধবার তিনি জানান, তার মেয়ের সুপারিশেও টিকিট দেননি। মন্ত্রী নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিটও কাটেন।

এরপরও নানাজনের নামে টিকিট ব্লক করার প্রবণতা থেমে নেই। মন্ত্রীর একান্ত সচিব আতিকুর রহমানের নামে ঢাকা-পঞ্চগড়ের ৩১ তারিখের দুটি টিকিট ব্লক করা হয়েছে সার্ভারে। যদিও আতিকুর নিজেও জানেন না, কে এই টিকিট ব্লক করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে কারা টিকিট ব্লক করেছে, তাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনসহ পাঁচটি স্থান থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনে ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের ২৫ হাজার ৫৭১টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এর অর্ধেক বিক্রি হয়েছে কাউন্টার থেকে। বাকি অর্ধেক অ্যাপ ও অনলাইন থেকে বিক্রি হয়েছে। তারপরও অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, তারা অ্যাপ ও অনলাইনে টিকিট কিনতে পারেননি। এমন অনেকে বাধ্য হয়ে ভিড় করেছেন রেলস্টেশনে। যদিও সবাই টিকিট পাননি। দুপুর পর্যন্ত শোভন ও শোভন চেয়ার শ্রেণির টিকিট পাওয়া গেছে। তবে এসি বগি ও কেবিনের (বার্থ) টিকিট ফুরিয়ে গেছে বিক্রি শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই।

১৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তিস্তা এপপ্রেসে এসি কেবিনের টিকিট পেয়েছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী মেহেদী হাসান। ঢাকা-জামালপুরের টিকিটের জন্য বুধবার বিকেল ৫টা থেকে তেজগাঁও রেলস্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। রাতে স্টেশনেই ঘুমিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টায় হাতে পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত টিকিট। তার আগে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন আরও তিনজন। তার মতো ১৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মাসুম হোসেন। তিনি জানান, পরিবারের সবাই মিলে জামালপুরে গ্রামের বাড়ি যাবেন। সঙ্গে শিশুও রয়েছে। আরামে যেতে এসি কেবিনের বিকল্প নেই। তাই তিনি এক রাত কষ্ট করলেন, যেন সবাই মিলে আরামে বাড়ি যেতে পারেন।

খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৩টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে কমলাপুর থেকে। সেখানে লাইনে দাঁড়ানো যাত্রী নাসিরুদ্দীনের সঙ্গে কথা হয় দুপুরে। তিনি জানান, দিনাজপুর হয়ে পঞ্চগড়গামী একতা এপপ্রেসের টিকিট কেনার জন্য সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অনলাইন ও অ্যাপে চেষ্টা করেছেন। লাভ হয়নি। তারপর এসেছেন স্টেশনে। তিনি আসার আগেই লাইন লম্বা হয়েছে। তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। শেষ পর্যন্ত টিকিট পাবেন কি-না, তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন নাসির।

অ্যাপ ও অনলাইন নিয়ে অভিযোগ জানালেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্র কবির হোসেনও। কমলাপুরে লাইনে দাঁড়ানো এই যাত্রী জানান, লালমনি অথবা রংপুর এপপ্রেসের টিকিট কাটার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অ্যাপে সার্ভার ওপেন হয়, কিন্তু ট্রেন সিলেক্ট অপশন পর্যন্ত যায় না। লোডিং দেখায়। তাই স্টেশনে এসেছেন।

সাধারণ মানুষ টিকিট না পেলেও রেলের টিকিট বিক্রির অ্যাপ ও অনলাইন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের (সিএনএস) কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অধিকাংশ টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কারও বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সিএনএসের কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, প্রায় সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

বিষয় : ঈদযাত্রা কমলাপুর