ঈদের কেনাকাটায় জমজমাট দেশীয় ফ্যাশন হাউজ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০১৯     আপডেট: ২৯ মে ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ঈদের কেনাকাটায় আড়ংয়ে ক্রেতাদের ভিড়

ঈদের আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। শেষ সময়ে ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট-শপিং মলগুলো। 

এবারের ঈদে কেনাকাটার জন্য অনেকেই ভিড় করছেন দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে। দেশীয় সংস্কৃতির আদলে তৈরি পোশোকের প্রতি তরুণ-তরুণীদের ঝোঁক দেখা গেছে। তাই দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে ফ্যাশন হাউজগুলোতে দেওয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় নানা অফার। 

দেশীয় ফ্যাশন হাউজ আড়ং, কে ক্র্যাফট, অঞ্জনস, নবরূপা, বিশ্বরঙ ঘুরে দেখা গেছে, এদের বিভিন্ন আউটলেটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়।   

তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে ঈদকে একটু আরামদায়ক করে তোলার জন্য ফ্যাশন হাউজগুলো সুতি, লিনেন কাপড়কে প্রাধান্য দিয়েছে। এসব কাপড়ে এঁকেছে নিজস্ব ডিজাইন, এনেছে পোশাকের ছাঁটে ভিন্নতা। 

যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে ক্রেতাদের উপচেভিড় দেখা গেছে। হাউজগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের পোশাকের হাতার ডিজাইনে রয়েছে ভিন্নতা। তবে তরুণীদের কথা মাথায় রেখে কামিজ বা কুর্তির নিচে, হাতায় বাহারি ধরনের কুচি দেখা গেছে। এবার ঈদে লং কাটের পোশাকগুলো চলছে বেশ। এছাড়া প্যান্টেও আনা হয়েছে ভিন্নতা। ফ্রকের সঙ্গে একটু ঢোলা আকৃতির নকশার প্যান্টও চলছে বেশ। বর্ষা মৌসুমের কথা মাথায় রেখে আকাশী, পেস্টসহ হালকা রংগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

যারা একটু স্বাস্থ্য সচেতন তারা এ গরমে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে যাচ্ছেন দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে। বেছে নিচ্ছেন হাল্কা রঙের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। 

উত্তরা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের কে ক্র্যাফটের আউটলেটে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন সুমাইয়া জাহান। তিনি বলেন, প্রতি ঈদে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো থেকে কেনাকাটা করি। এসব হাউজের পোশাকে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। এই গরমে আরামদায়ক বলে সবার জন্য সুতি কাপড়ের জামা কিনেছি। 

এদিকে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো সর্বসাধারণের কথা মাথায় রেখে স্বল্পমূল্য থেকে শুরু করে অধিকমূল্যে বিক্রি করছে তাদের পোশাক। পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে জুতা ও গহনার কালেকশনও রয়েছে।

বাড্ডা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের আড়ংয়ের আউটলেটে কেনাকাটা করতে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মুক্তি। তিনি বলেন, আমার আড়ংয়ের টাগা খুব পছন্দ। এদের দামও নাগালের মধ্যে, আবার ফ্যাশনেবলও। পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে গহনাও কিনেছি। 

আড়ংয়ের বিক্রয়কর্মী সাজ্জাদ জানান, রোজার শুরু থেকেই ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক আনা হচ্ছে। ক্রেতাদের বেশি ভিড় ছেলেদের পাঞ্জাবি সেকশনে। আবার মেয়েদের পোশাকের মধ্যে শাড়ি ও সালোয়ার কামিজের চাহিদা রয়েছে বেশ।  

তিনি জানান, ক্রেতাদের জন্য তারা নানা আকর্ষণীয় অফারও রেখেছেন। 

পোশাকের পাশাপাশি ঈদে ঘর সাজানোর নানা অনুষঙ্গ কিনতেও ক্রেতারা দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে ভিড় করছেন। পর্দা, বিছানার চাদর, কুশন, ঘর সাজানোর নানা অনুষঙ্গ কিনছেন হাউজগুলো ঘুরে ঘুরে। পর্দা, বিছানার চাদর, কুশন কভারে বাহারি রং ও ডিজাইনের সমাহার দেখা গেছে। এসবের দাম রয়েছে একেবারে সর্বসাধারণের হাতের নাগালের মধ্যেই।