জাহালমের কারাভোগ-২

সালেকের ছবি দেখে ছানা বলেছিলেন এইটা তো জাহালম

প্রকাশ: ১৩ মে ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

হকিকত জাহান হকি

বহুল আলোচিত আবু সালেকের ছবি দেখেই টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ঘুনিপাড়া গ্রামের কাসপাই মোড়ের দোকানি সানোয়ার হোসেন ছানা বলেছিলেন, 'এইটা তো জাহালম।' একই এলাকার মানুষ হলেও তিনি হয়তো জাহালমের সঙ্গে সালেককে গুলিয়ে ফেলেছিলেন। তবে সালেকের ছবিকে জাহালম বলার বিষয়টি বহুদূর গড়িয়েছে।

সমকালের অনুসন্ধান অনুযায়ী, যেসব কারণে বিনা অপরাধে জাহালমকে তিন বছর জেল খাটতে হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সালেকের ছবি দেখে দোকানি ছানার বলে ওঠা এই কথা ছিল অন্যতম কারণ।

বিনা অপরাধে জাহালমের কারাভোগের পেছনে কে বা কারা দায়ী- এটিই এখন প্রধান প্রশ্ন। খোদ দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিরপরাধ জাহালমের কারাভোগের ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন, দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জাহালমের কারাভোগ প্রশ্নে হাইকোর্ট বলেছেন, হু ইজ রেসপন্সিবল? সমকালের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা ফয়সাল কায়েসের তদন্তের কাহিনী। ব্র্যাক ব্যাংকের মোহাম্মদপুর এসএমই শাখার সাবেক ম্যানেজার (বর্তমানে শ্যামলী শাখার ম্যানেজার) সাবিনা শারমিনের নির্দেশে অ্যাকাউন্টহোল্ডার সালেককে শনাক্ত করতে তদন্তে নামেন ফয়সাল। সালেক ওই অ্যাকাউন্টে ভুয়া ঠিকানা হিসেবে টাঙ্গাইলের নাগরপুরের গ্রাম :গুনিপাড়া, ডাকঘর :সলিমাবাদ- এই ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। গ্রামটির প্রকৃত নাম ঘুনিপাড়া।

ফয়সাল সালেকের খোঁজে ঘুনিপাড়া গ্রামে গিয়েছিলেন ২০১৪ সালে। তার সঙ্গে ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা নাজিউর রহমান শুভ্র। তার গ্রামের বাড়ি ঘুনিপাড়ার পাশের গ্রাম ধুবুড়িয়ায়। শুভ্রের বাড়ির ঠিকানা জানার পর সাবিনা শারমিন তাকে ফয়সালের গাইড করেন।

এ নিয়ে সমকালের পক্ষ থেকে শুভ্রের সঙ্গে খোলামেলা কথা হয়। তিনি বলেন, 'ম্যাডাম আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন। হিসাবটি নিয়ে এত ঝামেলা ছিল, সে কথা আমাকে বলা হয়নি। বলা হলে ফয়সালের সঙ্গে যেতাম না।'

ফয়সালের ঘুনিপাড়া সফর নিয়ে নাজিউর রহমান শুভ্রর বক্তব্য :'আমি তখন শান্তিনগর ব্রাঞ্চে ছিলাম। সেটির ম্যানেজার ছিলেন সাবিনা শারমিন। উনি ফয়সালের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং বলেন, আমি একটা অ্যাকাউন্ট করেছিলাম মোহাম্মদপুর এসএমই ব্রাঞ্চে। অ্যাকাউন্টটিতে একটা প্রবলেম ছিল। অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ করতে সঠিক তথ্য বিচার-বিশ্নেষণ করতে হবে। তিনি বলেন, আপনাদের গ্রামের পাশের একটি গ্রাম আছে ঘুনিপাড়া (সেখানে যেতে হবে)। টেম্পোতে আমাদের গ্রাম থেকে সেখানে যেতে ১৫-২০ মিনিট লাগে। এই অ্যাকাউন্টের এত ঝামেলা ছিল, ম্যাডাম এটা আমাকে বলেননি। ঘুনিপাড়া বাজারে ফয়সালকে নিয়ে গিয়েছিলাম অ্যাকাউন্টহোল্ডারকে খুঁজতে। ছবি দেখে আইডেন্টিফাই করার কথা ছিল।'

শুভ্র বলেন, ফয়সাল সাহেবকে নিয়ে ঘুনিপাড়া যখন যাই- তখন ঘুনিপাড়ার কাসপাই মোড়ের বাজারের দোকানদার ছানা সাহেবকে পাওয়া যায়। উনাকে সালেকের খোঁজ চেয়ে ছবি দেখালে তিনি বলেন, 'ওর নাম তো সালেক না, ওর নাম হচ্ছে জাহালম।' পরে বলেন, 'এখানে জাহালমের শ্বশুরবাড়ি আছে। ওর আসল বাড়ি হচ্ছে ধুবুড়িয়া- আপনাদের গ্রামে।' আমি বললাম, 'আমি তো চিনি না। তখন বলল, ওর ভাইয়ের দোকান আছে ধুবুড়িয়া বাজারে। ওর ভাইয়ের নাম শাহানুর।' শাহানুরকে আমি চিনি। পরে ফয়সালকে নিয়ে ওর দোকানে যাই।

শুভ্র বলেন, 'যেতে যেতে ফয়সাল বলেন, জাহালমের ঠিকানাটা ওর ভাইয়ের কাছ থেকে নেন। কেন এসেছি, এটা ওর কাছে বলবেন না। গোপন রাখতে হবে। উপকার করতে গিয়ে জাহালমের ঠিকানা নেই। পরে বুঝেছি, সেটা সালেকের ছবি ছিল। সাবিনা ম্যাডাম যে অ্যাকাউন্ট করেছিলেন, সেখানে ঘুনিপাড়ার ঠিকানা ছিল। আমার বাসা ধুবুড়িয়ায়। তার আন্ডারেই কাজ করতাম। তিনি ঝামেলাটা নিয়ে এসেছিলেন মোহাম্মদপুর ব্রাঞ্চ থেকে। আমি কাজ করতাম শান্তিনগর ব্রাঞ্চে। সাবিনা ম্যাডাম ব্রাঞ্চে এসে জিজ্ঞেস করেছেন, কার বাড়ি কোথায়। আমার বাড়ি নাগরপুরের ধুবুড়িয়া, এটা তিনি জেনে নেন। পরে ম্যানেজার হিসেবে আমাকে রিকোয়েস্ট করে ঠিকানাটা আইডেন্টিফাই করতে বলেন। এটা সত্য, আমি ব্র্যাক ব্যাংকে উনার (সাবিনা ম্যাডাম) আন্ডারে কাজ করেছি। তবে ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখার ওই অ্যাকাউন্টের মামলা হলো উনার।'

'আপনি ফয়সাল কায়েসকে জাহালমের ভাইয়ের কাছে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন কেন?' এ প্রশ্নের জবাবে শুভ্র বলেন, তিনি ফয়সালকে ফ্রেন্ড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, নরসিংদীতে ওর ব্যবসা আছে। এটা ফয়সালই তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন মূলত জাহালমের ঠিকানা নিতে। যেহেতু ছানা বলে দিয়েছেন, ছবির মানুষটির নাম জাহালম। জাহালমের ভাই যদি জানেন যে, তারা গিয়েছেন অ্যাকাউন্টের ঝামেলা নিয়ে- তা হলে ওর ঠিকানা বলবে না। এ জন্য ফয়সালই তার পরিচয় না বলার জন্য রিকোয়েস্ট করেছিলেন।

'আপনি ফয়সালকে ঘুনিপাড়া না নিয়ে গেলে জাহালম ফাঁসত না'- এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, 'অ্যাকাউন্ট নিয়ে এত বড় ঝামেলা আছে, সাবিনা ম্যাডাম এসবের কিছুই জানাননি। জানলে এই ঝামেলা নিয়ে গ্রামে যেতাম না। ফয়সাল আমারও কলিগ, ম্যাডামেরও কলিগ। তবে ম্যাডামই আমার সঙ্গে ফয়সালের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে যদি আমাকে বলেন, আপনাকে আপনার পাশের গ্রামে যেতে হবে, আপনার গ্রামে আমার আরেকজন কলিগ যাবে- তখন একজন অতিথি হিসেবে তাকে তো যতটা সমাদর করা দরকার, করতে হবে। পরে যখন জানতে পারি, তখন ম্যাডামকে বলেছিলাম, ম্যাডাম এতো ঝামেলা আছে, এটা আমাকে আগে বলেননি কেন? ম্যাডাম বলেছিলেন, এটা সিক্রেট রাখতে বলা হয়েছে।

'ফয়সাল কায়েস দুদক অফিসে গিয়ে জাহালমকে দেখিয়ে বলেছেন, এটাই সালেক। এই ফয়সাল কায়েস ধুবুড়িয়া গিয়ে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছিলেন। আর দুদকে গিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছিলেন।' এ প্রসঙ্গে মতামত জানতে চাইলে শুভ্র বলেন, তিনি ফয়সালকে নিয়ে যাননি। তিনি তার গ্রামে ছিলেন। ফয়সাল মোটরসাইকেল চালিয়ে ঢাকা থেকে গিয়েছেন।

জাহালমকে নিয়ে একটি ফাঁদ তৈরি করা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ধুবুড়িয়া গিয়ে আমিও জাহালমকে দেখলাম না। ফয়সালও দেখল না। ফয়সাল যখন ছবিটা (সালেকের ছবি) নিয়ে নরসিংদীতে গেল তখন দেখল, সালেকের ছবির সঙ্গে জাহালমের মিল নাই, তখনই কিন্তু বলতে পারত, এই লোক সেই লোক না।'

শুভ্র বলেন, আগে থেকেই তিনি শান্তিনগর ব্রাঞ্চে ছিলেন। ম্যাডাম আসেন পরে। ম্যাডাম যখন জানতে পারলেন, তার গ্রামের বাড়ি ধুবুড়িয়া, আর ধুবুড়িয়া থেকে ঘুনিপাড়া ১৫-২০ মিনিটের রাস্তা, তখন তিনি তাকে অ্যাকাউন্টে সালেকের উল্লেখ করা ঘুনিপাড়ার ঠিকানা আইডেন্টিফাই করতে বলেন। ম্যাডাম তাকে ছবি দেননি। সালেকের ছবি তাদের গ্রামের বাড়িতে ফয়সাল কায়েস নিয়ে গেছে। এবং ফয়সাল এটাকে আইডেন্টিফাই করেছে যে, সে-ই (জাহালম) ব্যাংকে গিয়েছে, অ্যাকাউন্ট করেছে।'

শুভ্র এখন ব্যাংক এশিয়ার রাজধানীর উত্তরা শাখায় কর্মরত। এর আগে ছিলেন উত্তরা দক্ষিণখান ব্রাঞ্চে। ব্র্যাক ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই ব্যাংক এশিয়ায় যোগ দেন তিনি। ব্যাংক এশিয়ায় যোগ দেওয়ার পর ওই ঝামেলার বিষয়ে জানতে পারেন বলে জানান তিনি।

শুভ্র বলেন, তখন ছানার বয়স ৪৫ বছর ছিল। আমরা তার দোকানে গিয়েছিলাম। দোকানের পাশে এবং জাহালমের শ্বশুরবাড়ির দুই বাড়ির পরে তার বাসা। এখনও ঘুনিপাড়া বাজারে তার দোকান আছে। তার দোকান আবদুর রশীদ স্কুলের সামনে।

'আপনাদের সফরে ঘটনা বহুদূর গড়িয়েছে' বলে জানালে তিনি বলেন, 'এটা দুঃখজনক। ম্যাডাম যদি আগে বলতেন, ক্লিয়ার করে বলতেন তা হলে যাচাই-বাছাই আরও সুন্দরভাবে করা যেত। তখন বলতে পারতাম, ম্যাডাম আপনি নিজেই যান অথবা বলতাম, ম্যাডাম আপনি নিজেই সবকিছু করেন। আমাদের জড়াবেন না।'

এ ঘটনার সঠিক বিচার চাওয়ার পাশাপাশি তিনি বলেন, জাহালম আমার গ্রামের ছেলে। সে তো আমার শত্রু না। ওর তিন বছর কারাভোগে যে ক্ষতি হলো- সম্প্রতি জাহালমের সঙ্গে আমার এসব নিয়ে কথাও হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনের সময় গ্রামে গিয়েছিলাম। তখন জাহালমের সঙ্গে কথা হয়েছে। জাহালম দুঃখ করে আমাকে বলেছে, 'ভাই, আপনি না হয় আমার ঠিকানা দিয়েছেন- আপনি না দিলেও আমি যেখানে চাকরি করি, এই ঠিকানাটা অন্য কেউ দিত। ব্র্যাক ব্যাংকে চাকরি করে এই গ্রামের ১৫-১৬ জন। ঘটনা হচ্ছে, ফয়সাল যখন ঘোড়াশালের জুট মিলে যান, তখন আমাকে (জাহালমকে) দেখেই বলেছিলেন, তুমিই ব্যাংকে গিয়েছিলা, তুমিই অ্যাকাউন্ট করেছ। তখন আমি কত রিকোয়েস্ট করে বলেছি, আমি তো স্বাক্ষর করতে পারি না, আমি অ্যাকাউন্ট করব কীভাবে। যখন আমাকে দুদক অফিসে নিয়ে যায়, তখন ওই ফয়সাল কায়েস, সাবিনা শারমিন- এরা সবাই মিলে আমাকে দেখিয়ে বলেছেন, ওর নাম সালেক, ওর নাম জাহালম না।' জাহালম এসব বলে আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। আমি তো আমার গ্রামের ছেলে। এ ব্যাপারে আমি কী স্টেটমেন্ট দিয়েছি, আর সেই স্টেটমেন্ট যে সত্য, এটা গ্রামের সবাই জানে।

সানোয়ার হোসেন ছানা

শুভ্র বলেন, মূল প্যাঁচটা বাধিয়েছে দোকানদার ছানা। আমরা তো ছানাকে চিনি না। ছানা ছবি দেখেই বলে, এটা তো জাহালম, ওর বাড়ি ধুবুড়িয়া, ওর ভাইয়ের দোকান আছে। ফয়সালের সামনে যদি বলে, আপনার গ্রামে ওর ভাইয়ের দোকান আছে, তখন ফয়সালকে কী বলতে পারি! বুঝলাম কোনো ঝামেলা আছে, তার পরও ফয়সালকে না করতে পারি নাই, ওকে নিয়ে জাহালমের ভাইয়ের দোকানে গিয়েছি। সেখানে যাওয়ার আগে আমাকে অনুরোধ করা হলো, জাহালমের ভাইয়ের কাছে যদি আমার ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচয় দেন, তা হলে সে জাহালমের অ্যাড্রেসটা না-ও দিতে পারে। তারে পরে যা বলার বলবেন। এখন আমি যেভাবে বলছি, সেভাবে বলবেন। কারণ, আমার জাহালমের ঠিকানা পর্যন্ত যাওয়া দরকার। সাদা কাগজে ওর একটা অ্যাপ্লিকেশন লাগবে। আমি জানি, পরিচয় গোপন রাখার কারণটা হালকা হয়ে গেল- ম্যাডাম আমাকে তো বলেই দিয়েছেন ও (জাহালম) একটা সাদা কাগজে সাইন করলে আর ওর ঠিকানা জানা গেলেই কেওয়াইসি হয়ে যাবে। প্রবলেম সল্‌ভ। এভাবেই সাবিনা ম্যাডাম ব্রিফিং দিয়েছিলেন। তাই সহজ-সরল মনে ফয়সালকে সাহায্য করেছি। এর পর ওরা যখন নরসিংদীতে গিয়ে জাহালমকে এভাবে আইডেন্টিফাই করেছে, তখন একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।

নাজিউর রহমান শুভ্র বলেন, যখন জানতে পারলাম জাহালমকে দুদক অ্যারেস্ট করেছে, তখন ম্যাডামকে (সাবিনা শারমিন) সরাসরি চার্জ করে বলেছি, এখানে এত বড় একটা ঝামেলা আছে- এটা তো আগে বলেননি! তখন ম্যাডাম বলেছেন, ঘটনাটা আপনার কাছে সিক্রেট রাখতে বলা হয়েছে। তা না হলে তো আপনি ফয়সালকে নিয়ে যেতেন না। ফয়সালকে নিয়ে আপনি সেখানে আইডেন্টিফাই করতেন না। এরপর তিনি বলেন, আমার জীবনটা শেষ করেছে। ম্যাডাম মনে করেছেন, আসামি ধরে ফেলেছি, আমার দায়-দায়িত্ব শেষ।

শুভ্র বলেন, কেন তাকে দিয়ে এ কাজটি করানো হলো, এ নিয়ে সাবিনা শারমিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় তিনি তাকে ট্রান্সফার পর্যন্ত করে দিয়েছিলেন। তার তিন বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ার নষ্ট করেছেন। তার পারফরম্যান্স এম (মার্জিনাল) দিয়েছেন। এম মানে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে যাদের বের করে দেয়। তখন ম্যাডামকে বলি, আপনি আমার ক্ষতি করলেন। আমার গ্রামের মানুষ আমাকে ভুল বুঝছে যে আমার জন্য একটি ছেলে জেল খাটছে। গ্রামের মানুষ তো বুঝবে না যে প্রকৃত সত্যটা কী?

শুভ্র আরও বলেন, 'আমি যদি দোষী হই, আমার যদি কোনো ভুল থাকে- সেটার জন্য আমার শাস্তি হবে। মনের দিক থেকে তো শাস্তি পাচ্ছিই। কিন্তু যারা জাহালমের ক্ষতি করল, ওকে সালেক সাজাল- তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জাহালম আমাকে বলেছে, 'ভাই আমি যখন দুদক অফিসে যাই, আপনার ম্যাডাম আর ওই ফয়সাল, এ দুজন আমাকে বলে, ও (জাহালম) ব্যাংকে গেছে, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করেছে। এটি না বললে পুলিশও আমাকে অ্যারেস্ট করত না, দুদকও আমাকে ধরত না।'

শুভ্র বলেন, 'ফয়সালকে বলেছিলাম, আপনি যে আমার গ্রামের এই ছেলেটার (জাহালম) ক্ষতিটা করলেন আপনাদের পিঠ বাঁচানোর জন্য, এইটার ব্যাখ্যা কী?' তখন সে বলেছে, 'ভাই আপনি তো দুদকের কোনো মামলা খান নাই। কী হইছে, এইটা আমার ম্যাডাম আর আমি জানি।' তখন জানতে চাই কী হইছে? তখন ফয়সাল বলেন, দুদক তাদের বলেছে, যদি এই ঠিকানা অনুযায়ী এই ছেলেকে অ্যারেস্ট না করতে পারো, তা হলে তোমাদের নামে চার্জশিট বের হয়ে যাবে। এর জন্য এটা করতে বাধ্য হয়েছি।

ফয়সাল যে ছবিটা নিয়ে গেল, সেই ছবিটা দেখে আপনি কী বলেছিলেন- জানতে চাইলে শুভ্র বলেন, আমি ছবিটা (সালেকের ছবি) দেখে প্রথমেই বলেছিলাম, এই ছেলেকে আমি চিনি না। ফয়সাল যখন নরসিংদী গেছে, তখন চালাকি করে আমাকে সঙ্গে নেয়নি।

তিনি বলেন, 'দুদকের লোক আর কী বলবে, ওরা নিজেরাই যদি বলে, ব্যাংকে গেছে, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করেছে।'

সানোয়ার হোসেন ছানার বক্তব্য : এ প্রসঙ্গে ছবি শনাক্তকারী সানোয়ার হোসেন ছানা বলেন, ফয়সাল কায়েস তার দোকানে এসে একটা ছবি দেখান। সেটি দেখে তিনি বলেন, এটা জাহালম। তখন ফয়সাল কায়েস জানতে চান, এর আত্মীয়স্বজন, এখানে কেউ আছে কি না। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ঘুনিপাড়ায় তো জাহালমের কেউ নেই। তার এক ভাই আছে, তিনি ধুবুড়িয়ায় থাকে। তার দোকান আছে। তখন তারা ধুবুড়িয়া যায়। ফয়সাল কায়েসের কাছে শুধু ছবি ছিল।

ছানা বলেন, ছবির সঙ্গে চেহারার উনিশ-বিশ মিলের কারণে জাহালম নাম পেয়েছে। যে কাজের জন্য ছেলেটা (জাহালম) জেল খেটেছে, সেই কাজ সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই। যে ছেলে বাংলা লিখতে, নাম লিখতে কলম ভাঙে সে এত বড় একটা ঝামেলার ভেতরে যাবে কী করে? এত বড় ঝামেলায় যাওয়ার জন্য শিক্ষা-দীক্ষারও প্রয়োজন আছে। যে সময়ের ঘটনা, সে সময় সে মিলের শ্রমিক ছিল। তার বাবা-চাচাও ছিল মিলের শ্রমিক। আমার বিশ্বাস, কাগজপত্রের ওপর যাচাই-বাছাই করলে ছেলেটাকে জেল খাটতে হতো না। এই কাজের ভেতরে তাকে জড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

ছানা বলেন, 'একজনের চেহারার সঙ্গে আরেকজনের চেহারার মিল হতেই পারে। কিন্তু কাগজপত্রে তো জাহালমের নাম ছিল না। জাহালমের চেহারা, জাহালমের বাবাসহ চৌদ্দপুরুষের ঠিকানা রয়েছে এখানে- এসব কিছু একদিকে, আর একটা ছবি একদিকে। এটা ভাবার বিষয় ছিল। ছবি দেখে বাড়িতে গিয়ে নাম পাওয়া যাচ্ছে আরেকটা- এ ক্ষেত্রেও অনেক কিছু ভাবার বিষয় ছিল।'

বিষয় : সালেক ছানা জাহালম

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
তারিখ সেহরি ইফতার
২৫ মে '১৯ ৩:৪২ ৬:৪২
২৬ মে '১৯ ৩:৪১ ৬:৪৩
*ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার জন্য প্রযোজ্য
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ