জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক সংসদের বাজেট আলোচনায়

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা করতে গিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তর্ক-বিতর্কে সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এমপিরা।

মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর পর সংসদের অর্ধশতাধিক সদস্য বাজেট আলোচনায় অংশ নেন।

তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি গত নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনকে ভাড়া করেছিল। কিন্তু কামাল কাজ করছেন আওয়ামী লীগের হয়ে। তাই ফাঁকা মাঠে আওয়ামী লীগ গোল দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৌশলের কাছে বিএনপি হেরে গেছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, তারেক রহমান এসে বিএনপির ১২টা থেকে ১৩টা বাজিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কাছে বারবার হেরেছে তারা। এবার ভোটে নেমে মাঠ থেকে পালিয়ে গেলেন। তাদের দিয়ে কিছু হবে না। তারা খেলতেও জানেন না। আন্দোলনের ক্ষমতা তাদের নেই। বিএনপি বলেছিল, তারা এই পার্লামেন্টে আসবে না। এই পার্লামেন্ট অবৈধ। এখন অবৈধ পার্লামেন্টে বৈধ হয়ে তারা বসে আছে।

বাজেট সম্পর্কে বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা বলেন, প্রতি বজর বিশাল বাজেট দেওয়া হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয় না। এজন্য আমলাতন্ত্রকে দায়ী করে মোহম্মদ নাসিম বলেন, ব্যাংকিং খাত থেকে সচিবালয়- সর্বত্র জামায়াত-শিবির শেকড় গেড়ে বসে আছে। তারা সবসময় চায় আওয়ামী লীগ যেন ব্যর্থ হয়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ তার বক্তব্যে নাসিমের কথার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই ব্যালট ভর্তি করা হয়েছে। তাই এই পার্লামেন্টকে মধ্যরাতের পার্লামেন্ট বলা হচ্ছে। নির্বাচনে ভোটাররা প্রতারিত ও অপমানিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এই কমিশন ব্যর্থ, অযোগ্য। দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে কলঙ্কজনক নির্বাচন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত এই সাংসদ। বিএনপি কোনো কৌশলের কাছে হারেনি দাবি করে হারুন বলেন, জাতীয় সংলাপের সময় দেওয়া ওয়াদা কি পূরণ করা হয়েছিল? এমন নির্বাচন আগে কখনো হয়নি। বিএনপির ২২ জন প্রার্থী গ্রেফতার হয়েছিল, ৪০ জন প্রার্থী ভয়ানকভাবে আহত হয়েছেন। কোনো কেন্দ্রে ভোটার যেতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন এই সাংসদ।

বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, এমন ভাবে বলা হচ্ছে যেন বাজেটের আকারই এর স্বার্থকতা। এখানে কতটা ঋণনির্ভর বাজেট। ব্যাংক থেকে বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হবে।

বাজেট আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরল্ফম্নজ্জামান আহমেদ, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, মোস্টত্মাফিজুর রহমান, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল, আবু জাহির, জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান ও নাসরিন জাহান রত্নাসহ ৫২ জন এমপি।