৩ ধরনের কাঁচাপাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

তিন ধরনের কাঁচাপাট রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে সরকার।

বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রণালয়।

ওই তিন ধরনের পাট হলো- আন-কাট বা আস্ত কাঁচাপাট, বিটিআর বা বাংলাদেশ তোষা রিজেকশন ও বিডব্লিওআর বা হোয়াইট রিজেকশন। তবে অন্যান্য কাঁচাপাট রফতানি এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আওতায় পড়বেনা।

গত বছরের ১৮ জানুয়ারি থেকে এই তিন ধরনের পাট রফতানি নিষিদ্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, পাটপণ্যের আন্তজাতিক চাহিদা কমে আসায় অনেক মিল অবিক্রিত পাটপণ্য নিয়ে বিপদে রয়েছে। রফতানি কমে আসায় সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে এসব মিল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে গত মওসুমের অবিক্রিত পাটের মজুত এখানো রয়ে গেছে। অথচ নতুন মৌসুমের পাট বাজারে আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। পরিপ্রেক্ষিতে কাচাপাট রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে নেওয়া এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রণালয়ের যুগ্নসচিব খুরশীদ ইকবাল রেজভী। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ ( ইপিবি) সংশ্নিস্ট মন্ত্রণালয়,সংস্থা ও বিভাগকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বিজেএমএ মনে করে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে পাটের সংকট আরও ঘনীভূত হবে। আবারও এই তিন ধরনের নিম্নমানের পাটের আড়ালে ভালো মানের পাট পাচার হয়ে যাবে।

জানতে চাইলে বিজেএমএর সচিব আব্দুল বারেক খান সমকালকে বলেন, মোট কাঁচাপাটের ২ শতাংশের বেশি নয় আনকাট, বিটিআর ও বিডব্লিউআর। অথচ রফতানি দেখানো হয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। এতে বিপুল পরিমাণে রফতানি আয় থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া দেশের পাট কলগুলো ভালো মানের পাটের সংকটে ঠিকমত উৎপাদন চালিয়ে নিতে পারছেনা।

তিনি জানান, সব ধরনের কাঁচাপাট রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চান তারা। এ নিয়ে গত এক বছরে কয়েক দফা সরকারকে চিঠি লিখেছেন তারা। তবে এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা।

জানা গেছে, আনকাট, বিটিআর ও বিডব্লিউআর এক ধরনের পরিত্যাক্ত পাট। ভালো মানের গ্রেড-১ মানের তুলনায় এই তিন ধরনের পাটের দাম এক তৃতীয়াংশেরও কম।

দামের সুবিধা নিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের পাটের নামে ভালো মানের পাট রফতানি কিংবা পাচার করছে। এতে স্থানীয় মিলগুলো ভালো মানের পাটের সংকটে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করতে পারেনা।

এর আগেও ২০১৫ সালেও একবার সব ধরনের কাঁচাপাট রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তিন মাস পর আবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে এবার কাঁচাপাটের মজুদ পড়ে থাকায় রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সাধারণত, কাঁচা শ্রেণিতে ৬ ধরনের পাট রফতানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়া তিন ধরনের পাটের রফতানির পরিমাণ কাগজে-কলমে মোট পাট রফতানির প্রায় ৬০ শতাংশ।

ভারত এ ধরনের পাটের বড় বাজার। কাঁচাপাট আকারে বছরে ১১ লাখ বেল রফতানির মধ্যে ৮ লাখ বেলই যায় ভারতে। ভারত ছাড়াও পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে পাট রফতানি হয়ে থাকে।

বিষয় : পাট