শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি বন্ধে নির্দেশ ডিসিদের

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ডিসি সম্মেলনে দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দিচ্ছেন বক্তারা। ছবি: ফোকাস বাংলা

কোচিং বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি বন্ধ, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান প্রকল্প মনিটরিং, বকেয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল আদায়ে কঠোর ভূমিকা রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার মন্ত্রীরা এসব নির্দেশনা দিয়েছেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

সোমবার তৃতীয় অধিবেশন শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানির ঘটনা বেড়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই যৌন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে ডিসিদের। এছাড়া জেলা প্রশাসকদের কোচিং ও নোটবই বন্ধে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ যাতে দখল না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে বলেছি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা নিয়মিত উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত নিয়মিত পরিবেশনের কথাও বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভালো শিক্ষকদের ক্লাসগুলো প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেয়ার করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসকরা। তবে আমরা ভেবে দেখেছি এটা অনেকাংশেই সম্ভব হবে না। বরং পুরো দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস শেয়ার করার সুযোগ করে দিতে শিক্ষাটিভি চ্যানেল জাতীয় কিছু চালু করা যেতে পারে। এতে খুব কম খরচে টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে ভালো বিদ্যালয়ের ভালো শিক্ষকদের ক্লাসগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও একই সঙ্গে সব স্কুলে দেখাতে পারব।

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান প্রকল্প মনিটরিংয়ের নির্দেশ: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান দেওয়ার প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর আওতায় ১৬ হাজার ঘর নির্মাণ করা হবে। কাজ ঠিকমতো যাতে বাস্তবায়ন হয়, সেজন্য তা মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডিসিদের।

পরিকল্পিত শিল্প এলাকা ছাড়া বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ নয়: সরকার অনুমোদিত ও পরিকল্পিত শিল্প এলাকা ছাড়া বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেছেন, যত্রতত্র ও অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের লাইন কেটে দেওয়া হবে। তবে যারা কারখানা স্থাপন করে ফেলেছেন তারা ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন আমাদের এসব সংযোগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তাদের পরিকল্পিত শিল্প এলাকায় স্থানান্তরিত করার জন্য ভাবতে হবে। জেলা প্রশাসকেরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার নিয়ে সমস্যার কথা বলেছেন। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয়ের জন্য এমনটা হচ্ছে বলে জানান তারা। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগ অচিরেই এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও সংশ্নিষ্টদের নিয়ে সভা করবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসকরা আরও দায়িত্বশীল অবদান রাখতে পারেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রথম এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ তৃতীয় হয়েছে, যার পেছনে জেলা প্রশাসকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

বিদ্যুতের বকেয়া বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি অফিসগুলোতে বিদ্যুতের বকেয়া বিল প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি গ্যাসের বিলও বকেয়া রয়েছে অনেক টাকা। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সব মিলিয়ে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, যারা বিদ্যুৎ, গ্যাসের বিল দেবে না তাদের লাইন কেটে দেওয়া হবে।

বিষয় : যৌন হয়রানি ডিসি ডিসি সম্মেলন